ডেস্ক রিপোর্টঃ জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ নতুন করে ২০১৩ সালের পুনরাবৃত্তির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাত ১১টা ৪৮ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিতীয় গণজাগরণ মঞ্চ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
নিজের পোস্টে তিনি লেখেন, “২০২৫-এ এসে ২০১৩ ফেরানোর চেষ্টা করবেন না। সাবধান!”
এর কয়েক ঘণ্টা পর, ভোর ৪টা ২৪ মিনিটে আরেকটি পোস্টে তিনি শাহবাগ আন্দোলন ও তার পেছনের শক্তিগুলো নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শাহবাগ আন্দোলন কোনো একক ব্যক্তির সৃষ্টি ছিল না, বরং তথাকথিত সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, আমলা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিদেশি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী, রাজনীতিবিদ ও ক্রীড়াবিদদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনে এটি গড়ে উঠেছিল।
হাসনাত আবদুল্লাহ তার পোস্টে দাবি করেন, “শাহবাগ কেবল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করেনি, বরং এটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন, এবং বিচারিক হত্যার বৈধতা দিয়েছিল। শাহবাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের বীজ বপন করা হয়েছিল, যা বিগত ১৫ বছর ধরে চলমান ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “যারা শাহবাগ কায়েমে সহযোগিতা করেছিল, তারাই ফ্যাসিবাদী শাসনের অন্যতম স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের প্রত্যক্ষ সমর্থনে হাসিনা সরকারের ফ্যাসিবাদ দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এই সমন্বয়ক আরও লেখেন, “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা বিগত ১৫ বছরে সংঘটিত সব অন্যায়, অপকর্ম, গুম, খুন ও নিপীড়নের বিচার নিশ্চিত করতে চাই।”
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের শহীদদের চেতনা রক্ষায় আমরা সদা জাগ্রত। আবারও পুনরাবৃত্তি করছি, আমরা বিগত শাসনামলে সংঘটিত সকল অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”
তার এই পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।
বিএম/সজীব



