ডেস্ক রিপোর্ট: ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি করা বিদ্যুতের ৮৪৫ মিলিয়ন (সাড়ে ৮৪ কোটি ) ডলারের বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে স্পষ্ট রোডম্যাপ চেয়েছে ভারতের আদানি গ্রুপ ।
আদানির চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান গতকাল বলেছেন, আমাদের কাছে তাদের পাওনা আছে, সেজন্য তারা বকেয়া পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে আলাপ-আলোচনার জন্য একটি চিঠি দিয়েছে। এটা একটা রুটিন বিষয়।
গত ৬ জানুয়ারি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মো. ফাওজুল কবির খানকে লেখা চিঠিতে আদানি গ্রুপ বকেয়া পরিশোধের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনার তাগিদ দিয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে: ২০২৩ সালে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) উত্থাপিত চালান (ইনভয়েস) পুরোপুরি পরিশোধ করতে পারেনি। এমতাবস্থায় মাসের পর মাস ধরে বকেয়া জমা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পিডিবির অর্থ পরিশোধের ধরনে উন্নতি হলেও আদানি উল্লেখ করেছে যে, এসব অর্থ প্রদান বর্তমান মাসিক বিলগুলো কোনোভাবে পরিশোধ করতে পারছে। যেকারণে বিদ্যুৎ রপ্তানির বিল বাবদ বকেয়া ৭৭১ মিলিয়ন ডলারসহ মোট ৮৪৫ মিলিয়ন ডলার আউটস্ট্যান্ডিং রয়েছে।
উভয় পক্ষের মতভেদ বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এবিষয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘পিডিবি এবং আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেড (এপিজেএল) এরমধ্যে বেশকিছু দাবি ও পাল্টা-দাবির ঘটনা ঘটেছে।’ একারণে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার ইঙ্গিতও দেয়া হয় চিঠিতে।
এসব সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে, গোড্ডা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিদ্যমান সকল বিষয় সমাধানের জন্য ঢাকায় একটি বৈঠকের আয়োজন করতে বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করেছে আদানি গ্রুপ।
১৭০ কোটি ডলারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জ্বালানিখাতে সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাবে বলা হয়েছিল এমন কথাও। কিন্তু, তার বদলে এটি দুই দেশের মধ্যে আর্থিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রে অবস্থান করছে।
বিপিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিন উল আহসান বলেন,বর্তমানে বৈদেশিক সরবরাহকারীদের কাছে বিপিসির কোনো বকেয়া দেনা নেই। ডিসেম্বর মাসে ডলারের সংকট থাকায় সকল সরবরাহকারীর বিল পরিশোধ করা হয়নি। এজন্য কিছু নিয়মিত বিল বকেয়া রয়েছে। যার পরিমাণ ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলার হতে পারে।
বিএম /জ/রা



