― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

১১৬ অনুচ্ছেদের আইনি জটিলতায় আটকে বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয়

ডেস্ক রিপোর্টঃ বিচার বিভাগের জন্য বহু কাঙ্ক্ষিত পৃথক সচিবালয় গঠনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ। ইতোমধ্যে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়’ নামে একটি খসড়া অধ্যাদেশ প্রস্তুত করা হয়েছে, যা নীতিগত অনুমোদন ও রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির অপেক্ষায় রয়েছে। তবে সংবিধানগত দ্বন্দ্বের কারণে অধ্যাদেশ জারির উদ্যোগ থমকে আছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ এক প্রশ্নের উত্তরে জানান, “বিচার বিভাগের স্বাধীন সচিবালয় আমাদের সবচেয়ে বড় দাবি। এটা বাস্তবায়নে অর্গানোগ্রাম ও ধারণাপত্র দেওয়া হয়েছে। এখন আইনগত ও সাংবিধানিক প্রতিবন্ধকতা পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

আসলে মূল প্রতিবন্ধকতা সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ। বর্তমান অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার বিভাগে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত, যা কার্যত আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। ফলে বিচার বিভাগের ওপর এখনো কার্যত দ্বৈত নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে।

এই অনুচ্ছেদকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শিশির মনির। তার আবেদনে আদি সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়, যেখানে সুপ্রিম কোর্টকে নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া ছিল। মামলায় হাইকোর্ট ইতোমধ্যে রুল জারি করেছে এবং রুল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, “প্রধান বিচারপতির এই উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়, তবে দুঃখজনকভাবে সরকার এই ইস্যুতে ধীরগতিতে চলছে। যে অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ১১৬ অনুচ্ছেদের বাধা দূর করা জরুরি। আশা করি, রাষ্ট্রপক্ষ সময় নেওয়ার প্রবণতা পরিহার করে মামলাটি নিষ্পত্তির পথে এগোবে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি হাইকোর্ট আদি সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়, তবে আইনি বাধা দূর হবে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।

স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে এই সচিবালয়ের প্রতিষ্ঠা। তবে এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সাংবিধানিক সংশোধন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সমন্বয়। এখন দেখার বিষয়—আদালতের রায়ের পর কত দ্রুত এই উদ্যোগ বাস্তবে রূপ নেয়।

বিএম/সজীব