‘নিজস্ব প্রতিবেদক
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে আবারও অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২’ সংশোধন করার মাধ্যমে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে সশস্ত্র বাহিনীকে আর কারও নির্দেশের অপেক্ষায় থাকতে হবে না।
ভোটের সময় তারা পুলিশ কর্মকর্তাদের মতোই নির্বাচনি অপরাধের জন্য কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে পারবেন। ১৬ বছর পর সশস্ত্র বাহিনী এই ক্ষমতাটি আবারও ফিরে পেতে যাচ্ছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগের চেয়ে বেশিসংখ্যক সেনা মোতায়েনে আগ্রহী। গত রবিবার বিএনপির একটি প্রতিনিধিদলের কাছে তিনি এই আগ্রহের কথা বলেন।
এদিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীও গত ১১ আগস্ট সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনে ৮০ হাজারের বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন করা হবে।
২০০১ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আরপিও সংশোধন করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হওয়ার পর তা বাদ দেয়।
গত সোমবার (১৮ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ আরপিও সংশোধনের কথা বলার পর গতকাল মঙ্গলবার সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সব সেনা সদস্যকে নির্বাচনের সময় আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত হতে বলেছেন।
এ বিষয়ে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনব্যবস্থায় সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। দেশে যে কটি জাতীয় নির্বাচন অনেকাংশে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে সেগুলোতে সশস্ত্র বাহিনীর কার্যকর সহযোগিতা ছিল। তাঁরা নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীনভাবে দায়িত্ব পালন করেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি দেশবাসীর আস্থা বেশি। নির্বাচনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী মাঠে থাকলে মানুষ স্বস্তি পাবে। আর এবার সশস্ত্র বাহিনী থাকবে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা নিয়ে।’



