সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের বক্তব্য বিকৃত করে বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর ভুয়ো কনটেন্ট (Fake Content) ছড়িয়ে দেওয়ার অপতৎপরতার বিরুদ্ধে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন দেশের প্রখ্যাত ও জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী জাহিদ হাসান। নিজের একটি আবেগঘন বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিন্ন কনটেক্সটে ব্যবহার করে এবং প্রয়াত একজন অভিনয়শিল্পীর জানাজার ফুটেজের সঙ্গে জোরপূর্বক জুড়ে দিয়ে একাধিক ভুঁইফোড় ফেসবুক পেজে আপত্তিকর ভিডিও প্রচার করায় চরম বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ তিনি। ডিজিটাল মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্মানহানির এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের দীর্ঘ সংগ্রাম ও মানসিক অনুভূতির কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে জাহিদ হাসান বলেছিলেন, “আমি কষ্টে মরে যাচ্ছি, তবু মুখে হাসি রাখার চেষ্টা করি।” জীবনের স্বাভাবিক চড়াই-উতরাই ও একজন সংবেদনশীল মানুষের ভেতরের লড়াই বোঝাতে তিনি এই প্রতীকী মন্তব্যটি করেছিলেন। কিন্তু কয়েকটি ক্লিকবেট ও ভুঁইফোড় ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে তাঁর ওই বক্তব্যকে কাটছাঁট করে। শুধু তা-ই নয়, প্রয়াত অভিনয়শিল্পী শামস সুমনের জানাজার পুরোনো একটি শোকাবহ ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে জাহিদ হাসানের এই অডিও ক্লিপটি জুড়ে দিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর শিরোনামে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করে ভাইরাল করা হয়।
এই ন্যাক্কারজনক সাইবার বুলিং ও ফেক নিউজের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সোমবার (২২ জুন, ২০২৬) জাহিদ হাসান বলেন, “বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা দেখছি, তা সভ্যতা ও ভব্যতার সব সীমা অতিক্রম করে গেছে। এসব সস্তা ফেসবুক পেজের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। একজন মানুষের আবেগ নিয়ে এভাবে প্রতিনিয়ত ব্যবসা চলতে পারে না।” তিনি জানান, তাঁর নিজস্ব সাইবার সিকিউরিটি ও লিগ্যাল টিম ইতিমধ্যেই ডিজিটাল ফরেনসিকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পেজ ও গ্রুপগুলোর ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং অ্যাডমিনদের আইডেন্টিটিসহ সমস্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। পরিকল্পিতভাবে এই চরিত্রহনন ও অপপ্রচারের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে খুব শিগগির আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হবে।
অভিনেতা আরও জানান, তিনি ইতিমধ্যেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন এবং তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এই সাইবার অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে তিনি সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়েরও বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। জাহিদ হাসান ক্ষোভের সঙ্গে যোগ করেন, “বছরের পর বছর সাধনা করে একজন শিল্পী, খেলোয়াড় বা রাজনীতিবিদ তৈরি হয়। প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণের জন্য, কারও সম্মানহানি করে ভিউ কামানোর সস্তা হাতিয়ার নয়। এদের মধ্যে কয়েকজনকে ধরে জেলের ভেতর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে বাকি অপশক্তিগুলোও সোজা হয়ে যাবে।”



