বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে, যেখানে প্রতি ৯ জন নাগরিকের মধ্যে একজন এই রোগের বাহক। বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) রাজধানীর মালিবাগে আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৮ থেকে ১১ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মাচ্ছে। বর্তমানে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজারে পৌঁছেছে। উন্নত দেশগুলোতে এই হার কমলেও বাংলাদেশে সচেতনতার অভাবে পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় এক স্বাস্থ্যঝুঁকি।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হলেও দেশের সব মেডিকেল কলেজে এখনো এই রোগের চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে গণমাধ্যম এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধিই পারে এই বংশগত রোগের বিস্তার রোধ করতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, থ্যালাসেমিয়া নিয়ে সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার দূর করা অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই মনে করেন বাহক হলে বিয়ে করা যাবে না, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কেবল একজন বাহক হলে সন্তানদের ঝুঁকি থাকে না; সমস্যা হয় তখনই যখন দুজনেই বাহক হন। এই বার্তাটি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ধর্মীয় নেতাদের এগিয়ে আসার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার দাবি জানান বক্তারা।
বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মনজুর মোরশেদ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা এখনো ঢাকাকেন্দ্রিক রয়ে গেছে এবং দেশে রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার ঘাটতি প্রকট। উন্নত বিশ্বে অধিকাংশ রক্ত স্বেচ্ছায় দান করা হলেও বাংলাদেশে এই হার মাত্র ২৫-৩০ শতাংশ। এই সংকট নিরসনে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং জেলা-বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।



