― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

মনোনয়ন নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে বাড়ছে বিরোধ, ঘটছে সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়ছে বিএনপি। অতীত ইতিহাস অনুযায়ী বিএনপিতে এটি স্বাভাবিক ঘটনা হলেও জামায়াতে এমনটি আগে দেখা যায়নি। কিন্তু মনোনয়ন ঘিরে জামায়াতেও এবার তা দেখা গেছে।

গত সোমবার বিএনপি তাদের দলীয় মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে। তবে এর আগে থেকেই দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বিরোধে জড়িয়েছেন। যার প্ররিপ্রেক্ষিতে সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ, হামলা-পাল্টা হামলা, গুলি এমনটি গতকাল বুধবার একজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে নির্বাচনী জনসংযোগের সময় নগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের দলটির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। নগরের চান্দগাঁও চালিতাতলী খন্দকারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় ‘গণসংযোগে অংশ নেওয়া’ সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা (৪৩) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। অবশ্য চট্টগ্রামের বিএনপি নেতারা বলছেন, নিহত সরোয়ারের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই।

এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। এরশাদকে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত। গুলিবিদ্ধ অন্যান্যদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইরফানুল হক শান্ত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ আমিনুল হক ও মর্তুজা হকও বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রামে গুলির ঘটনার পর গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। বিএনপির প্রার্থী জনসংযোগ করার সময় সেখানে শত শত লোক অংশ নেন। সরোয়ার সেখানে অংশ নিলে সন্ত্রাসী দুটি দলের মধ্যে পূর্ববিরোধের জেরে তাকে গুলি করা হয়।’

অপরদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছেন, নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত মো. এরশাদ উল্লাহর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মেহেরপুরের গাংনীতে মনোনয়ন নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপির দুই পক্ষে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

এর আগেও বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধের জেরে অসান্ত হয়ে ওঠে মেহেরপুর, ফরিদপুর, ভোলা, খুলনা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা।
তবে চট্টগ্রামের ঘটনায় যেহেতু একজনের প্রাণ গেছে, তাই সরকার এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ নিয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (উত্তর) আমিরুল ইসলাম গতকাল বলেছেন, এই ঘটনা জাতীয় নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘গোলাগুলির ঘটনার সাথে পূর্বাপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একটা সংশ্লিষ্টতা আছে। বিশেষ করে আমরা কিছুটা অনুমান করতেছি যে যিনি মারা গেছেন উনিও বিভিন্ন মামলার আসামি। ওনার সাথে সন্ত্রাসী রাইভালরি যাদের সাথে আছে তারা এরকম কাজ করতে পারে। এটার সাথে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে বলে মনে হয় না।’

এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পাবনা-৫ (সদর), ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া), কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে প্রকাশ্য বিরোধ, ঘোষিত প্রার্থীকে লাঞ্ছনা ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা এবং বিক্ষোভ দেখা গেছে জামায়াতের নেতাকর্মীদের মাঝে। নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে তৃণমূলের আপত্তিতে প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছে।

এছাড়া সিলেট-৫, কুষ্টিয়া-৩, চট্টগ্রাম-১৫, গাজীপুর-৬ আসন নিয়ে অপ্রকাশ্য বিরোধ রয়েছে। কুমিল্লার দুটি আসনেও অসন্তোষের গুঞ্জন রয়েছে।

দলীয় শৃঙ্খলা সম্পর্কে অতটা অবগত না থাকা সমর্থক পর্যায়ের কিছু লোক অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করেছে দাবি করে দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, জামায়াত এগুলোকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।