― Advertisement ―

কোটাবিরোধী আন্দোলন: সড়ক অবরোধ করে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৯...

ভোলায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগ, স্বাক্ষর জাল ও দুর্নীতির অভিযোগ

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

চরফ্যাশনে রব্বানীয়া আলিম মাদ্রাসার স্ব-ঘোষিত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে জাল স্বাক্ষর, অবৈধ নিয়োগ, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎসহ না-না অভিযোগ এনে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ঢাকা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে গত ২৬ মে ২০২৪ । উপজেলার দক্ষিণ চর আইচা গ্রামের রব্বানীয়া আলিম মাদ্রাসার স্ব-ঘোষিত অধ্যক্ষ মোঃ আবুল বাসার হেলালীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন একই এলাকার বাসিন্দা মোঃ আলাউদ্দিন।
অভিযোগ সূত্রে জনা যায়,মোঃ আবুল বাসার হেলালী অত্র প্রতিষ্ঠানে সহকারী সুপার হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ার কিছুদিন পর সাবেক সুপার মাওলানা আবদুল গনির স্বাক্ষর জাল করে অবৈধভাবে দুজন শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করলে বিষয়টি লিখিত আকারে ইউএনও কে জানানো হলে আবুল বাসার হেলালী আর কখনো জাল-জালিয়াতি করবে না মর্মে ইউএনও কে অঙ্গিকার করেন।কিন্তু অজ্ঞাত কারনে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।তৎকালীন অধ্যক্ষ মাও আবদুল গনি মারা যাওয়ার পর কোন বৈধ প্রক্রিয়া ছাড়াই সম্পূর্ণ জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অধ্যক্ষের কাজকর্ম করে আসছেন এবং অধ্যক্ষের সীল ব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করাসহ অবৈধ ভাবে প্রাপ্ত স্কেল গ্রহণ করায় গত ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ইং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভায় আবুল বাসার হেলালীকে আত্মসাৎকৃত ৩৪ হাজার একশ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও হেলালী তা জমা দেননি। এছাড়াও মাদ্রাসার পূর্বের এফডিআর এর এক লাখ টাকা বর্তমান মাদ্রাসার এফডিআর এর দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা ও মাদ্রাসার নামে একওয়ারকৃত জমির ভুমি হুকুম হইতে ৬৩ হাজার টাকা অধ্যক্ষ নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও অধ্যক্ষ আবুল বাসার হেলালীর বিরুদ্ধে অবৈধ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।
সুত্র জানায়, সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বিধিমালার বাহিরে ভুয়া কাগজ বানিয়ে ৪র্থ আরবি প্রভাষক হিসেবে আশ্রাফ আলিকে ২০০৪ সনের নিয়োগ দেখিয়ে ২০২৪ সনের এপ্রিলে বিল ভাতা করেন যাহা সম্পূর্ণ অবৈধ।
অভিযোগে তিনি আরও বলেন বর্তমানে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির স্বাক্ষর ও অন্যান্য সদস্যদের স্বাক্ষর এবং ডিজি প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করে তৈরী করে বিল ভাতার জন্য মাদ্রাসা অধিদপ্তরে প্রেরন করেছেন। গোপন বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে অবৈধ আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে আব্দুর মান্নান ও আয়া জান্নাতকে নিয়োগ প্রদান করেন।পরে ম্যানেজিং কমিটির সভাপ্রতি মাদ্রাসার স্ব-ঘোষিত অধ্যক্ষকে নোটিশ করে জানতে চাওয়া হয় অত্র মাদ্রাসায় কোন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কিনা? পরে অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
এ-সব বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এবিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আবুল বাসার হেলালী সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিতো অভিযোগ মিথ্যা। আমাকে হেয় করার জন্য নারী ও শিশু নিযার্তন মামলার আসামি এই অভিযোগ করেছে । ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন মুঠোফোনে জানান, অভিযোগকারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযোগ প্রমানিত হলে ব্যবস্থা নিবো ।।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মহিউদ্দিন জানান,লিখিত অভিযোগের বিষয়ে দুপক্ষকে সরজমিনে আসতে বলেছি তারা কেউ আসেনি। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নিবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নওরীন হক এই প্রতিবেদককে বলেন,আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানতে পারলাম সরকারি প্রতিষ্ঠানের কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ এলে তা নিয়ে বসাবসির কিছু নাই। অপরাধ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।