চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার চরফ্যাশনে টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন আবুল খায়ের ও মো. নূর হোসেন নামের দুই যুবক। তারা কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। সুচিকিৎসায় না পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় কেউ চাকরি হারিয়েছেন। আবার কেউ কাজ করার স্বক্ষমতা হারিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা ধারদেনা করে কিছুটা চিকিৎসা করালেও টাকার অভাবে হচ্ছে না উন্নত চিকিৎসা। সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতা পেলে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারতেন বলে আশা স্বজনদের।
চরফ্যাশন উপজেলার চর মানিকা ইউনিয়নের দক্ষিণ আইচা এলাকার হাওলাদার বাড়ির কেরামত আলীর ছেলে আহত আবুল খায়ের। তিনি চট্টগ্রামের খুলশীতে একটি সুপার সপের এরিয়া সুপার ভাইজার পদে কাজ করতেন। গত ৫ আগস্ট বিকেলে চট্টগ্রামের ওয়াসা মোড় এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষ চলছিল। ওই সময় তিনি চট্টগ্রামের গোলপাহাড় মোড় থেকে কাজ শেষে খুলশীতে যাওয়ার সময় ওয়াসা মোড় এলাকায় গুলবিদ্ধ হন। তার পেটে দুইটা, কাঁধে একটি ও বাম পায়ে একটিসহ মোট ৪টি গুলি লাগে। এ সময় ছাত্ররা তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবারে খবর দেন।
আহত আবুল খায়ের জানান, তার অবস্থা গুরুতর হলে গ্রামের বাড়ি থেকে ধারদেনা করে পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসনে। এ পর্যন্ত তার ৪টি অপারেশন হয়েছে। এতে সাড়ে ৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখনো ২টি অপারেশন করাতে হবে। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে অপারেশন ও ওষুধের খরচ নিয়ে দুশ্চিতায় তিনি।
আবুল খায়েরের মা হালিমা বেগম ও বাবা কেরামত আলী জানান, তাদের ছেলে কোনো রাজনীতি করেন না। কোনো আন্দোলনেও যাননি। অফিসের কাজ শেষে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বড় ছেলে বিয়ে করে আলাদা থাকেন। আবুল খায়ের ও তার ছোট ভাইয়ের চাকরির আয়ে চলে বৃদ্ধ বাবা-মা, ছোট ভাই-বোনদের পড়াশুনা এবং সংসার। বর্তমানে আয় রোজগার না থাকায় কষ্টে চলছে সংসার ও ছেলের ওষুধের খরচ। তারা বলেন, আগে অনেক টাকা ধারদেনা করে ছেলের চিকিৎসা করিয়েছি। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে হবে, এজন্য আমরা সরকারিভাবে সহযোগিতা কামনা করছি।



