― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নীতিগত সংস্কারের কার্যকর বাস্তবায়নের জোর দাবি অ্যামচেমের

বাংলাদেশে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পথ সুগম করতে কেবল নীতিগত সংস্কার ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয়, বরং তার ধারাবাহিক ও কার্যকর বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)। সংগঠনটি মনে করে, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে রাজস্ব ও বন্দর ব্যবস্থায় অটোমেশন এবং নীতিগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।

রবিবার (১৬ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বিল্ডিং ইনভেস্টরস কনফিডেন্স: ফ্রম পলিসি রিফর্ম টু ইফেক্টিভ ইমপ্লিমেন্টেশন’ শীর্ষক এক মধ্যাহ্নভোজ সভায় নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতারা এই মতামত ব্যক্ত করেন। অ্যামচেমের উদ্যোগে আয়োজিত এ সংলাপে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও মার্কিন বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন।

সংলাপের শুরুতে সূচনা বক্তব্যে অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল উদীয়মান ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতগুলোতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রাথমিক অবকাঠামো বাংলাদেশে থাকা সত্ত্বেও দৃশ্যমান ও পূর্বানুমানযোগ্য ফলাফলের অভাবে কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর ঘটছে না। কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন বাণিজ্য ও প্রযুক্তির প্রধান কেন্দ্র হতে পারে বাংলাদেশ।

এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান সংলাপে মূলধনের সুরক্ষা ও স্থিতিশীল পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বচ্ছ ও সহজ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশি পুঁজি আকর্ষণে বাংলাদেশ তার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এমপি ব্যবসায়িক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন এবং নিয়ন্ত্রণমূলক বাধা কমানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা যেন তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো সরাসরি নীতিনির্ধারকদের কাছে তুলে ধরতে পারেন, তার জন্য সরকার বিশেষ দ্বিপক্ষীয় তদারকি মেকানিজম চালু করেছে।

কর ব্যবস্থা সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন চালু এবং স্বচ্ছতা আনাই এখন মূল অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, কাস্টমস ও বন্দর সম্পর্কিত প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি কমপ্লায়েন্ট বা নিয়ম মেনে চলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আলাদা মানদণ্ড নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে দুর্নীতি কমার পাশাপাশি কর ব্যবস্থার প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা স্টার্টআপ খাতের জন্য সহজ শর্তে মূলধনপ্রাপ্তি, রাজস্ব আহরণ ও নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিল শেভরন বাংলাদেশ, এইচএসবিসি, ট্রান্সকম গ্রুপ এবং ভিসা।