― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

বায়ুদূষণে ঢাকা বিশ্বের শীর্ষ তালিকায়, বাঁচতে চাইলে মেনে চলুন এই পরামর্শগুলো

বরিশাল মেইল ডেস্কঃ ঢাকায় বায়ুদূষণ ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্ষা শেষে শীতকালের আগে সাধারণত দূষণ বাড়তে থাকে, আর এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় বিশ্বের ১২১টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান চতুর্থ। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের সূচকে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ছিল ১৬৩, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত। এই দূষিত বায়ু শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য ক্ষতিকর এবং যে কারো স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ তালিকার প্রথম স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর (একিউআই স্কোর ৪৯৬) এবং দ্বিতীয় স্থানে ভারতের রাজধানী দিল্লি (৪২০)। ঢাকার আশপাশের কয়েকটি স্থানে বায়ুদূষণের মাত্রা আরও ভয়াবহ। যেমন, মহাখালীর আইসিডিডিআরবি, ইস্টার্ন হাউজিং, এবং গুলশানের রব ভবন এলাকার দূষণ সূচক অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশি।

ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান কারণসমূহ

ঢাকার বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হলো বাতাসে অতিক্ষুদ্র কণা (পিএম ২.৫) এর উচ্চমাত্রায় উপস্থিতি। এই কণাগুলো এতই ক্ষুদ্র যে সহজেই আমাদের শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে এবং শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ এবং ফুসফুসের নানা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। আজকের দূষণ সূচক অনুযায়ী, ঢাকার বাতাসে পিএম ২.৫ এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানমাত্রার চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

গাড়ির কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি, শিল্প কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া, ইটের ভাটা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত। এই দূষিত উপাদানগুলো ঢাকার বাতাসে ক্রমাগত মিশে বায়ুর মানকে ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।

ছবিঃ বরিশাল মেইল

দূষণ থেকে বাঁচতে করণীয়

এই পরিস্থিতিতে নিজেকে এবং পরিবারকে রক্ষার জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ:

১. মাস্ক পরিধান করুন: বাইরে বের হলে সবসময় মানসম্মত মাস্ক ব্যবহার করুন। বিশেষ করে নাকে-মুখে সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, যাতে দূষিত কণা শ্বাসনালিতে প্রবেশ করতে না পারে। এন-৯৫ বা এফএফপি২ মাস্কগুলো বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে কার্যকরী।

২. খোলা স্থানে ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন: বাইরে ধুলাবালু এবং দূষিত বাতাসে শরীরচর্চা বা হাঁটাচলা এড়িয়ে চলুন। বাইরে দৌড়ানো বা ব্যায়াম করার ফলে শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে বেশি দূষিত কণা প্রবেশ করতে পারে, যা স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায়।

  1. ঘরের জানালা ও দরজা বন্ধ রাখুন: বাইরের দূষিত বাতাস থেকে ঘরের পরিবেশ রক্ষার জন্য জানালা ও দরজা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাদের ঘরে এয়ার পিউরিফায়ার আছে, তারা ঘরের বাতাসকে বিশুদ্ধ রাখার জন্য এটি ব্যবহার করতে পারেন।

সতর্কতার গুরুত্ব ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঢাকায় বায়ুদূষণ ইতিমধ্যেই বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং শীতকাল আসার সাথে সাথে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বায়ুদূষণ থেকে শরীরকে রক্ষা করতে এবং স্বাস্থ্যের উপর এর ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া এবং সুষ্ঠু পরিকল্পনা তৈরি না করলে ঢাকার বায়ুদূষণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এই সংকট মোকাবেলায় আমাদের ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতন হওয়া এবং নিজেদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা খুবই জরুরি।

বিএম/সজীব

আরও পড়ুনঃ

পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে বায়ু দূষণ বিপজ্জনক মাত্রায়, স্কুল বন্ধ ঘোষণা