― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

বাংলাদেশ-মরক্কো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পৌনে এক বিলিয়ন ডলার ছাড়াল: সম্পর্কের নতুন দিগন্তের প্রত্যয়

দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ও অভিন্ন সংস্কৃতির ওপর ভর করে বাংলাদেশ ও মরক্কোর মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়ে রেকর্ড ৮০৪ মিলিয়ন বা ৮০ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে মরক্কোর ২৭তম জাতীয় সিংহাসন দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সুধী সমাবেশে বক্তারা এ তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে বিনিয়োগ ও অংশীদারত্ব বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই মরক্কোর আগাম স্বীকৃতির বিষয়টি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। ১৯৭৩ সালের ১৩ জুলাই উত্তর আফ্রিকার এই প্রভাবশালী রাষ্ট্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। সেই ঐতিহাসিক সূচনার পর থেকে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দুই দেশের বন্ধুত্ব ক্রমশ নিবিড় হয়েছে। ১৯৮১ সালে আল-কুদস কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরক্কো সফরকে উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন পরিবেশমন্ত্রী।

বাণিজ্যের হালনাগাদ পরিসংখ্যান তুলে ধরে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মোট ৮০৪ মিলিয়ন ডলার বাণিজ্যের মধ্যে মরক্কো থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ ছিল ৭৮১ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সিংহভাগই ছিল দেশের কৃষিখাতের মূল চালিকাশক্তি রাসায়নিক সার। অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে মরক্কোতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র ২২ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার। এই বিশাল বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা দূর করতে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, পাটজাত পণ্য, সিরামিক, ওষুধ, হিমায়িত মাছ এবং হালকা প্রকৌশল সামগ্রী আমদানির জন্য মরক্কোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। ২০২৬ সালের নভেম্বরে মরক্কো থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মরক্কোর বিশাল মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার সুফল নিতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী। আফ্রিকাসহ ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের ৯৫টিরও বেশি দেশে মরক্কোর শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা রয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে। অর্থনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি শিল্প প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র উৎসব, সাহিত্য সম্মেলন এবং যৌথ গবেষণা চালুর মাধ্যমে দুই দেশের সংস্কৃতির মেলবন্ধন নিবিড় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত লালা বুথাইনা এল কারদুদি এল কুলালি বলেন, জাতিসংঘ এবং ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে মরক্কো ও বাংলাদেশ সবসময় একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে। ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থানকে সাধুবাদ জানান। মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী ‘কাফতান’ পোশাককে ইউনেস্কোর অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সহযোগিতার পাশাপাশি ক্রীড়া ক্ষেত্রেও দুই দেশের সামাজিক সম্প্রীতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মরক্কো ফুটবল দলের প্রতি বাংলাদেশি সমর্থকদের ভালোবাসার কথা স্মরণ করেন মরক্কোর রাষ্ট্রদূত। আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপে মরক্কোর মাটিতে বাংলাদেশি দল ফুটবল খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে এবং হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী উত্তর আফ্রিকা ভ্রমণ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে সরকারের সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা, কূটনীতিক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।