― Advertisement ―

বাংলাদেশে সামরিক উপস্থিতির কথা ভাবছে চীন, মার্কিন প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

দক্ষিণ এশিয়াসহ পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে সামরিক উপস্থিতির কথা ভাবছে চীন। সম্প্রতি এমন তথ্য প্রকাশ করেছে আমেরিকা। মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) এই তথ্য প্রকাশ করে। তাদের ‘বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন’ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়। তবে এসব দেশে চীন কী ধরনের সামরিক উপস্থিতি চাইছে, সে ব্যাপারে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এ নিয়ে চীনেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের হুমকি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিআইএ)। প্রতি বছর ‘ওয়াল্ডওয়াইড থ্রেট এসেসমেন্ট’ নামে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে দেশটি। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়া অংশে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতে বিভিন্ন হুমকির কথা বলা হলেও তাতে বাংলাদেশের কথা উল্লেখ নেই। তবে প্রতিবেদনের চীন অংশে যেসব হুমকির কথা বলা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী মিয়ানমারের কথাও রয়েছে।

চীনের ব্যাপারে সতর্ক করে মার্কিন এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পূর্ব এশিয়ায় প্রধান শক্তিধর দেশ হওয়ার কৌশলগত লক্ষ্য বজায় রেখেছে চীন। তাইওয়ানকে মূল ভূখণ্ড চীনের সঙ্গে একীভূত করা, চীনের অর্থনীতির উন্নয়ন ও স্থিতিস্থাপকতাকে এগিয়ে নেওয়া এবং মধ্য শতাব্দীর মধ্যে প্রযুক্তিগতভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দেশটি বিশ্ব নেতৃত্বের জন্য আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জও জানাচ্ছে।’

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ‘কূটনৈতিক, তথ্যগত, সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা ও তার মিত্রদের মোকাবিলা করার জন্য চীন তার বৈশ্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইন্দো-প্যাসিফিক ও তার আশপাশের অঞ্চলে আমেরিকা ও তার মিত্রদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। এই প্রতিযোগিতায় চীনকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে তিনি নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন সামরিক জোট ও তার নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের জন্য সমর্থনকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।’

আমেরিকাকে টেক্কা দেওয়ার জন্য চীন কোন কোন অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতির কার্যক্রম শুরু করেছে এবং কোন দেশগুলোতে শুরু করার চিন্তা করছে, তা মার্কিন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনের চীন অংশের ‘গ্লোবাল মিলিটারি অপারেশনস’ শীর্ষক অনুচ্ছেদে বলা হয়, ‘চীনে থেকেই দির্ঘ কার্যক্রম চালানোর জন্য পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) বা গণমুক্তি বাহিনীর ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করছে দেশটি। এ ছাড়াও শক্তিশালী বিদেশি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করছে চীন। এই বাহিনীর সেনাদের আরও বেশি দূরত্বে মোতায়েন রাখার জন্য অবকাঠামো তৈরি করছে। এই প্রচেষ্টা মার্কিন বৈশ্বিক কার্যক্রম কিংবা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘চীন সম্ভবত বার্মা (মিয়ানমার), থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কিউবা, কেনিয়া, গিনি, সেশেলস, তানজানিয়া, অ্যাঙ্গোলা, নাইজেরিয়া, নামিবিয়া, মোজাম্বিক, গ্যাবন, বাংলাদেশ, পাপুয়া নিউগিনি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ও তাজিকিস্তানে পিএলএ–এর সামরিক উপস্থিতির কথাও বিবেচনা করছে।’

সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন