আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবং নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার এক টেলিফোনিক আলাপ করেছেন, যেখানে তারা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একত্রে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই ফোনালাপের বিস্তারিত তথ্য ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ও টাইমস অব ইসরায়েল জানায়।
আব্বাসের অভিনন্দন ও শান্তির জন্য প্রস্তুতির ঘোষণা
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট আব্বাস তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে আব্বাস বলেছেন, “আমি আন্তর্জাতিক বৈধতার ভিত্তিতে ন্যায় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।” তিনি আরও জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনে চলমান যুদ্ধের সমাপ্তি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত।
এদিকে, ট্রাম্পও এই আলোচনায় আব্বাসকে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আমি যুদ্ধ শেষ করতে কাজ করব এবং এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আমি প্রেসিডেন্ট আব্বাসসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী।” ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করবেন এবং বিশেষভাবে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের সমাধান নিয়ে জোর দিয়েছেন।
গাজা যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত সংঘাত
ফোনালাপে ট্রাম্প এবং আব্বাস মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন, বিশেষত চলমান গাজা যুদ্ধ নিয়ে। গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলা শুরু করার পর, ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণে ৪৩,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার বেশিরভাগই নারী ও শিশু। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, যুদ্ধ এখন আর শুধু গাজা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নেই, বরং লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ৩,০০০ এর বেশি লোক নিহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের সমাপ্তির জন্য উদ্যোগী হবেন। তিনি ও আব্বাস উভয়েই একে অপরকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।
ট্রাম্পের শান্তির প্রতিশ্রুতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার দৃঢ় অবস্থান পরিস্কার ছিল। তবে, ট্রাম্প এও জানিয়েছেন যে, তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সকল পক্ষের সঙ্গে একত্রে কাজ করবেন, যদিও ইসরায়েলের প্রতি তার সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
ফিলিস্তিনের জন্য এই শান্তির উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে চলমান ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। ট্রাম্পের নেতৃত্বে নতুন কোনও শান্তির উদ্যোগের সুফল কী হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তবে তার প্রতিশ্রুতি একটি নতুন আলোচনার সূচনা হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সম্ভাবনা
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যদি ফিলিস্তিন-ইসরায়েল শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হয়, তবে তা কিভাবে এগোবে। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ এই অঞ্চলে শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, তবে তার রাজনৈতিক অবস্থান এবং ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কেমন হবে, তা পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে।
এদিকে, ট্রাম্পের সঙ্গে এ ধরনের আলোচনার মাধ্যমে ফিলিস্তিন শান্তির পথে নতুন সম্ভাবনা দেখতে পারে, তবে এর বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, টাইমস অব ইসরায়েল



