― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

পথে পথে চাঁদাবাজীর কারণে সবজির দাম চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও ক্রেতাদের চড়া দামে কিনতে হচ্ছে সবজি। দাম বাড়ার পেছনে ব্যবসায়ীরা পথে পথে চাঁদাবাজি, টানা বৃষ্টি, চাঁদাবাজীর কারণে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি ও উৎপাদন ঘাটতিসহ নানা কারণ দেখাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রাজধানীতে সবজি পরিবহনে সড়কে কয়েক দফা ব্যবসায়ীদের চাঁদা দিতে হয়। এর সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগী ও বাজার তদারকির দুর্বলতার বিষয়ও রয়েছে।

এসব কারণে কৃষক থেকে রাজধানীর খুচরা বাজারে আসতে আসতে সবজির দাম বেড়ে যাচ্ছে তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত। এতে মাঠের কৃষক যেমন ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতারা ঠকছেন।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এই চাঁদা তোলার ক্ষেত্র শুধু মানুষ বদল হয়েছে। পাইকারি আড়তে অবৈধ ‘কমিশন বাণিজ্য’ আগের মতোই পুরোদমে চলছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সবজি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণেই পাইকারির তুলনায় খুচরায় বেশি দামে বিক্রি করা হয়। পাইকারি পর্যায়ে অল্প সময়ের মধ্যে সব সবজি বিক্রি হয়ে যায়। কিন্তু খুচরায় প্রতিদিনের সবজি প্রতিদিন বিক্রি করা যায় না। এতে অনেক সবজি পচে যায়। এ কারণে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে হয়।’

পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী মোবারক মিয়া (ছদ্ম নাম) বলেন, এবার প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় সারা দেশে সবজির উৎপাদন কম। তাই কৃষকের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ঢাকায় নিয়ে যেতে কাঁচামাল পরিবহন খরচও বেশি পড়ছে। মহাসড়কের নির্দিষ্ট জায়গাগুলোতে পুলিশ থামালে বেশির ভাগ চালক কোনো কথা না বলে টাকা বের করে দেন।

তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের নামেও চাঁদা নেওয়া হয়। ঝামেলা এড়াতে চালকরা চাহিদামতো টাকা দিয়ে দেন। এই টাকা ভাড়া হিসেবে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়ে নেন চালকরা। এতে সব মিলিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে প্রতি কেজি সবজিতে খরচ পড়ে যায় কেনা দামের প্রায় দ্বিগুণ। এরপর খুচরায় যেতে যেতে সবজির দাম আরো বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান ট্রাক পণ্য পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মকবুল আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, ‘সরকার পরিবর্তনের পর পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি অনেকটাই কমে গিয়েছিল। আশা করেছিলাম, পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজিটা আর থাকবে না। কিন্তু সড়কে পুলিশসহ রাজনৈতিক দলের নেতাদের নামে ও নানা সংগঠনের নামে আবার চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশ পথে পণ্যবাহী ট্রাকে সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজি হচ্ছে।’

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, যথাযথ তথ্যের অভাব, চাঁদাবাজি ও পণ্য পরিবহনে বাড়তি ব্যয় খুচরা বাজারে সবজির দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলছে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক কৃষিবিদ সোহেল মো. শামসুদ্দিন ফিরোজ বলেন, ‘ যারা মাঠে ঘাম ঝড়িয়ে ফসল ফলায় সেই প্রান্তিক কৃষকরা সব সময়ই বঞ্চিত হচ্ছেন। উৎপাদন ও পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে কৃষি অধিদপ্তর যেমন ‘কৃষক গ্রুপ’ করেছে, তেমনি কৃষকদের ন্যায্যমূল্য পাইয়ে দিতে ‘কৃষি বিপণন’ গ্রুপ করা প্রয়োজন। কৃষি বিপণনকে অনলাইন ও অফলাইন দুটিতেই শক্তিশালী করাসহ বাজার ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে হবে।’