একটি সাধারণ সকাল কীভাবে একটি পরিবারের জন্য বিভীষিকাময় হয়ে উঠতে পারে, তার এক নির্মম দৃষ্টান্ত হয়ে রইল গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ। নিখোঁজ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর বাড়ির পাশের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হলো ১৭ বছর বয়সী নুরমা খাতুনের গলাকাটা মরদেহ। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে আসে। নিহত নুরমা স্থানীয় তালতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কৃষক নজরুল ইসলামের মেয়ে ছিল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই নুরমাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজনরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা খোলা দেখে সন্দেহ হলে ভেতরে উঁকি দিয়ে নুরমার নিথর ও রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান তাঁরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ। পুলিশি সহায়তায় ট্যাংক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্কুলছাত্রী নুরমার এমন নৃশংস মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর সহপাঠী ও গ্রামবাসী।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে এটি যে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, প্রাথমিক আলামত দেখে তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং এর পেছনের কারণ কী, তা উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মেধাবী এক কিশোরীর শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার আগেই এমন অকাল ও বীভৎস বিদায় সামাজিক নিরাপত্তার অভাবকেই আবারও আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।



