ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় এক নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার নাচনমহল গ্রামের এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ির পুকুরে ফেলে রেখে গেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। নিহত যুবকের নাম আমিনুল ইসলাম বাবু (২৭)। আজ রোববার (২৪ মে, ২০২৬) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার কুড়ালিয়া গ্রামের কৃষ্ণকান্ত রায়ের বাড়ির পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় তাঁর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে নলছিটি থানা পুলিশ। নিহত আমিনুল ইসলাম নাচনমহল গ্রামের বাসিন্দা মো. আলমগীর হোসেন তালুকদারের ছেলে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নলছিটি থানা পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার (২৩ মে) রাত ৯টার দিকে আমিনুল ইসলাম বাবু ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নিজ বাড়ি থেকে বের হন। এরপর গভীর রাত হয়ে গেলেও তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। আজ রোববার দুপুরে স্থানীয় এলাকাবাসী নিহত আমিনুলের বাড়ির অদূরে কুড়ালিয়া গ্রামে কৃষ্ণকান্ত রায়ের বাড়ির পুকুরে একটি মানবদেহ ভাসতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে নলছিটি থানার একটি বিশেষ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে ডাঙায় নিয়ে আসে।
সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকালে পুলিশ দেখতে পায়, নিহত যুবকের শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে এবং মাথায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ও একাধিক কোপের মারাত্মক চিহ্ন রয়েছে। নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, লাশের শরীরে আঘাতের ধরণ দেখে এটি যে একটি সুপরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড, তা প্রাথমিকভাবে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘাতকেরা তাঁকে অন্য কোনো স্থানে বা ওই পুকুর পাড়েই কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে লাশটি পানিতে ফেলে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
ওসি মো. আরিফুল আলম আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের মোটিভ বা কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে জেলা ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশের একাধিক টিম ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো কুড়ালিয়া ও নাচনমহল গ্রামসহ সমগ্র নলছিটি উপজেলায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



