২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আটক হয়ে আঠারো মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যে চলে গিয়েছিলেন তারেক রহমান।
সতেরো বছর বিদেশে কাটানোর পর সশরীরে আবার বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে তারেক রহমান এমন একটা সময়ে ফিরলেন যখন নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে ব্যস্ততা চলছে।
অবশেষে দেশে ফিরে তারেক রহমানকে অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রথমত নিরাপত্তার বিষয়
প্রথমত তারেক রহমানের নিরাপত্তার শঙ্কা সামনে আসছে। এবার তিনি ঢাকায় ফেরার পর নজিরবিহীন নিরাপত্তায় রয়েছেন। তবে জনসংযোগের ক্ষেত্রে এমন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিবন্ধকতাও হতে পারে।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘জনসাধারণের অনেক প্রশ্ন আছে, তার নেতাকর্মীদের অনেক প্রশ্ন আছে। তিনি কেন এতদিন আসেননি, ওখানে (লন্ডনে) কোন স্ট্যাটাসে থাকলেন, কেন মায়ের (খালেদা জিয়া) অসুস্থতার সময়ও আসতে পারলেন না’।
তিনি আরো বলেন, ‘এই বিষয়গুলো নিয়ে অস্বচ্ছতা রয়েগেছে তার সম্পর্কে, সেটা কিন্তু নেতা হওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা।’
অনেক বিশ্লেষক মনে করেন যে, ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি শাসনামলে তারেক রহমানকে ঘিরে অতীত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জনগণের কাছে ভাবমূর্তি পরিবর্তন ও আস্থা ফেরানোর একটা চ্যালেঞ্জও আছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামীম রেজার অবশ্য মনে করেন, তারেক রহমানের বিষয়ে দেশে ব্যক্তিগত সেসব আলোচনা রয়েছে, সেগুলো খুব একটা জোরালো হবে না। বরং একটা সমবেদনার জায়গা তৈরি হতে পারে।
বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় দীর্ঘদিন তারেক রহমান দলটির নেতৃত্ব দিলেও এখন নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তার সামনে আসছে।
এ ছাড়াও বড় চ্যালেঞ্জ বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। ইতোমধ্যেই দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অসদাচরণের দায়ে কেউ কেউ পদচ্যুত হয়েছেন; আবার অনেকেই বহিষ্কৃত হয়েছেন।
বহুমুখী অপপ্রচারের মাঝেও এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না তারেক রহমানের জন্য। মাঠপর্যায়ে সেসব বিষয় মোকাবিলা করে ঐক্য ধরা রাখা তারেক রহমানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশেষ করে নির্বাচনের অতীত ইতিহাস বিবেচনায় বিএনপি জয়ী হতে যাচ্ছে, এমন ধারণা থেকে ব্যবসায়ী, সিভিল সোসাইটি, প্রশাসনসহ বিভিন্ন খাতের নেতাদের মধ্যেও বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনার কথাও উঠে আসছে।
সব মিলিয়ে তারেক রহমানকে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। যদি সেই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে না পারেন; তবে ভয়ংকর পরিণতি হতে পারে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।



