― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

জাতীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে ডাকসু নির্বাচন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল। এই নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

দেশের সর্বত্রই এখন রাজনীতি সচেতন মানুষের কাছে আলোচনার বিষয়বস্তু আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে এই ডাকসু নির্বাচন কি বার্তা দিল?

এবারের নির্বাচনের ফলাফলে বড় চমক দেখিয়েছে জামায়াতে ইসলামী’র সহযোগী ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নতুন উত্থান অন্য রকম এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করেছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

তাদের উত্থানে পেছনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবং ক্ষমতায় যেতে মরিয়া বিএনপির ভূমিকাকেও দায়ী করছেন তারা।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই দুই দলের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়েই হয়তো পরীক্ষামূলকভাবে নতুন শক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ডানপন্থার প্রতি উৎসাহ বাড়তে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মতে, এই নির্বাচনের ফলের মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে জামায়াত একটা সুবিধাজনক অবস্থায় চলে গেছে । এর মধ্য দিয়ে জামায়াত নির্বাচনি প্রচারে অনেকটাই এগিয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ এখন তাদের নিয়ে ভাবছে।

বিএনপি যে সাংগঠনিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল, ডাকসু নির্বাচনের ফলাফলের মধ্য দিয়ে জাতির সামনে তা প্রকাশ পেলো বলে মনে করেন তিনি।

তবে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফল জাতীয় রাজনীতিতে অতটা প্রভাব ফেলতে পারবে না বলে মনে করছেন বিএনপি ও এনসিপি নেতারা।

গতকাল বুধবার রাজধানীতে একটি আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘অতীতে যারা ডাকসুতে ভিপি, জিএস হয়েছেন, এমন নেতা জাতীয় রাজনীতিতে আছেন, কেউবা হারিয়ে গেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘তাঁদের মধ্যে যাঁরা বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ জাতীয় সংসদে এসেছেন। বাকিরা সংগ্রাম করছেন আসার জন্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত কামিয়াব হননি। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি এবং ছাত্ররাজনীতির একটা পোস্টমর্টেম, বিশ্লেষণ।’

এ বিষয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন একটা সংস্কৃতির শিক্ষা হলো। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এত দিন ধরে চলে আসা অপকর্মগুলো যে পছন্দ করছে না, মুক্ত ছাত্রনেতৃত্ব যে দরকার, তারা সেটাই বাছাই করেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা সৎ, ছাত্রবান্ধব নেতৃত্ব পছন্দ করেছে। সহিংসতা, সন্ত্রাস, চাপ, অন্যায়-অত্যাচার যে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা পছন্দ করে না, ডাকসু নির্বাচনের ফল সেটাই প্রমাণ করেছে।’

আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরে পরোক্ষভাবে ডানপন্থার উত্থানের এই জমিনটা তৈরি করেছে। তরুণ প্রজন্মের মনস্তাত্ত্বিক জায়গাতেও পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক সরোয়ার তুষারের মতে, যারা জিতেছে, তাদের সাংগঠনিক মনোবল চাঙা হবে, এটা আমার কাছে মনে হয়েছে। এখন যারা জিতেছে, তাদের ক্ষমতাসীন ধরে নিয়ে ক্যাম্পাসে বিরোধী রাজনীতি চাঙা হবে।

এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে যারা আওয়ামী বিরোধী তারা ডাকসু নির্বাচনের ফলকে ‘ইতিবাচক’ এবং আগামী দিনের রাজনীতিতে নতুন সংস্কৃতির উন্মেষ বলে মনে করছেন।

পাশাপাশি আওয়ামী পন্থীদের এই নির্বাচন ও এর ফলাফল ‘আতঙ্কগ্রস্ত’ এবং হতাশ করেছে। যা সাধারণ মানুষের আড্ডা বা চায়ের দোকানে কান পাতলেই বোঝা যাচ্ছে।