― Advertisement ―

বৃহস্পতিবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত

বরিশাল মেইল ডেস্কঃআগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় সব শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার তারিখ পরে জানানো হবে।আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ...

ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ নিয়ে ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য, জবি শিক্ষকের বহিষ্কার চেয়ে বিক্ষোভ

বরিশাল মেইল ডেস্ক:

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা ও একটি জাতীয় অনলাইন পোর্টালে “ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক ভুল সিদ্ধান্ত” মন্তব্য করার অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু সালেহ সিকান্দারকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) সকালে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সকল শ্রেণিকক্ষে তালা দেন বিভাগটির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এরপর বিভাগের সামনে থেকে মিছিল শুরু করে ভিসি ভবনের সামনে এসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

পরে তারা ভিসি বরাবর সেকেন্দারের স্থায়ী বহিষ্কারসহ ৪ দফা দাবিতে স্মারকলিপি জমা দেন। এসময় তাদের স্লোগান ছিল- “দালালের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না”, “আবু সালেহ বাটপার, এই মুহূর্তে ক্যাম্পাস ছাড়”, “আবু সালেহর বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট এ্যাকশান”। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা আবু সালেহ সেকেন্দারকে অবাঞ্চিত করার ব্যানারের ওপর জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করে।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের দাবি- আজকের মধ্যে সালেহ সেকেন্দারকে সাময়িক বহিষ্কারসহ বেতন ভাতাদি ও সকল সুযোগ সুবিধা বন্ধ করতে হবে। আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে রিপোর্টের মাধ্যমে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে। একাডেমিক কমিটির অব্যাহতি ২০১৯ এরপর থেকে বর্তমান পর্যন্ত অন্যায্যভাবে বেতন ভাতা ও আর্থিক সুযোগ সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছেন তা ফেরত নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে ও যতক্ষণ পর্যন্ত সাময়িক বহিষ্কার ও তদন্ত সাপেক্ষে স্থায়ী বহিষ্কার এবং আইনত ব্যবস্থা নেয়া হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত সকল প্রকার ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।

এ বিষয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, “৫ আগস্টের খুনি হাসিনার দোসরদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দিব না। যখন শিক্ষার্থীদের উপর গুলি চালানো হয়েছে, তখন কোনো শিক্ষক প্রতিবাদ করেন নি। এখন তারা সাধু সাজছেন। যারা আগস্টে হত্যাকান্ডের অংশ ছিল তাদেরকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দিলে শহিদ সাজিদ, আবু সাঈদ ও মুগ্ধরা কষ্ট পাবে।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মো. নূর নবী বলেন, “বিগত সময়ে যারা স্বৈরাচার সরকারের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং গুম-খুন করত তারাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে। শুধুমাত্র ছাত্রলীগের পদের কারণে তারা শিক্ষক হয়ে এসেছিল। তার মধ্যে সালেহ সেকেন্দার একজন।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু সালেহ সেকেন্দারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আন্দোলনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।” এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।

উল্লেখ্য, একটি জাতীয় অনলাইন পোর্টালে শিক্ষক আবু সালেহ সেকেন্দার “ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক ভুল সিদ্ধান্ত” কলামে উল্লেখ করেন, “যে আইনের ধারায় ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করেছে তা বেশ হাস্যকর ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত বলে মনে হয়েছে। আল-কায়েদা বা আইএস নিষিদ্ধ করা আর ছাত্রলীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা এক বিষয় নয়।” এর পরেই ফুঁসে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।