― Advertisement ―

উত্তর কোরিয়া আন্তঃকোরীয় পরিত্যক্ত সড়ক উড়িয়ে দেয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে উত্তেজনা চরমে

বরিশাল মেইল ডেস্ক:

উত্তর কোরিয়া আন্তঃকোরীয় সীমান্তে অবস্থিত কিছু পরিত্যক্ত সড়ক উড়িয়ে দিয়েছে, যাতে করে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে । দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের মতে, এই পদক্ষেপটি উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান শত্রুতার একটি স্পষ্ট লক্ষণ।

মঙ্গলবার এই ঘটনা ঘটেছে, মাত্র কয়েকদিন আগে উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়াকে তার আকাশসীমায় ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ করেছিল। সড়ক ধ্বংস করা এই ঘটনাটি এই অভিযোগগুলোর প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া এবং দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান শত্রুতার প্রতিফলন।

সড়ক ধ্বংসের প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী সীমান্তে সতর্কতামূলক গুলি চালিয়েছে। তবে কোনো হতাহত বা ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে। উত্তর কোরিয়া এখনও এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

সড়ক ধ্বংস করা এই ঘটনাটি উত্তর কোরিয়ার পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ডের স্মরণ করিয়ে দেয়, যেমন ২০২০ সালে একটি লিয়াজোঁ অফিস ভবন ধ্বংস করা এবং ২০১৮ সালে একটি পারমাণবিক পরীক্ষার সাইট টানেল ধ্বংস করা। এই কর্মকাণ্ডগুলো প্রায়শই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটি বার্তা প্রেরণ করার লক্ষ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়।

কিম জং উনের সাম্প্রতিক এই আদেশটি জানুয়ারিতে দেওয়া নির্দেশনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে তিনি শান্তিপূর্ণ কোরীয় পুনর্মিলনের লক্ষ্য ত্যাগ করার এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘অপরিবর্তনীয় প্রধান শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন যে কিম এর মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রভাব কমাতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি আলোচনার চেষ্টা করছেন।

উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়াকে ড্রোন পাঠিয়ে পিয়ংইয়ংয়ে প্রচারপত্র ছড়ানোর অভিযোগ করেছে এবং এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটলে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানোর হুমকি দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ড্রোন পাঠানোর বিষয়ে স্বীকার না করলেও তারা সতর্ক করে বলেছে যে, যদি দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে তবে উত্তর কোরিয়া তার শাসনের অবসান দেখতে পাবে।

দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি হওয়ায় আরও সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় পক্ষকে সংযম প্রয়োগ করার এবং তাদের মতবিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।

বিএম/সজিব