আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর টাইরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। লেবাননের সরকার এবং স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শনিবারের এই হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, ক্বালাইলেহ অঞ্চলে আরেকটি হামলায় চারজন আহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
টাইর শহরে ইসরায়েলের দ্বিতীয় দফার হামলা শনিবার সংঘটিত হয়, যা পরিস্থিতির নতুন উত্তপ্ত রূপ তুলে ধরছে। টাইর দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম বৃহৎ শহর। একইদিনে দক্ষিণ লেবাননের জিবকিন এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।
এর আগে, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান লেবাননকে একটি “নতুন যুদ্ধের” দিকে ঠেলে দিতে পারে। তিনি বলেন, “সীমান্তে ইসরায়েলের নতুন করে চালানো সামরিক অভিযানের ফলে লেবানন ও এর জনগণ মারাত্মক সংকটে পড়তে যাচ্ছে।”
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এর আগে শনিবার ভোরে দক্ষিণ লেবাননের তুলিনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। ওই হামলায় আরও ১১ জন আহত হন।
ইসরায়েল দাবি করেছে, লেবাননের সীমান্ত থেকে ছোড়া তিনটি রকেট প্রতিহত করার পর তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের অভিযোগ, এসব রকেট হামলার জন্য হিজবুল্লাহ দায়ী।
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, উত্তর ইসরায়েলে ছোড়া রকেট হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তাদের দাবি, ইসরায়েল নিজেদের বিমান হামলার অজুহাত তৈরি করতেই এই অভিযোগ করছে।
হিজবুল্লাহর এই সরাসরি অস্বীকৃতি দলটির জন্য এক কঠিন পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। সাধারণত, এমন পরিস্থিতিতে তারা নীরব থাকত এবং প্রকৃত হামলাকারী দলটি নিজেই দায় স্বীকার করত। কিন্তু এবার তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দায় অস্বীকার করেছে, যা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে, লেবাননের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিশেল মেনাসা জানিয়েছেন, লেবাননের সেনাবাহিনী রকেট নিক্ষেপের বিষয়টি তদন্ত করছে। একইসঙ্গে, তিনি যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্রগুলোকে ইসরায়েলকে এই “মিথ্যা অজুহাতের” নামে আক্রমণ বন্ধ করতে বাধ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিএম/সজীব



