― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

আ’লীগের পতনের আগে সাজানো ৩৫ মামলা

ডেস্ক রিপোর্টঃ ২০২৪ সালের জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজধানীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অন্তত ৩৫টি মামলা করেছিল তৎকালীন পুলিশ। ওই সব সাজানো মামলায় হত্যার দায় চাপানো হয়েছিল বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর। এখন পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যার ঘটনার সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা জড়িত নন।

কিন্তু ৩৫ মামলায় উঠে আসা ৬২ জন হত্যায় কারা জড়িত, তা পুলিশ বের করতে পারেনি। খুনিদের শনাক্ত করতে না পেরে সম্প্রতি সেই সব মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকার জুলাই হত্যাকাণ্ডে নিজেদের দায় এড়াতে বিএনপি ও জামায়াতের ওপর দোষ চাপিয়ে পুলিশকে দিয়ে মামলা করিয়েছিল। সেসব মামলা থেকে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের অব্যাহতি দেওয়া গ্রহণযোগ্য। কিন্তু হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে না পারা গ্রহণযোগ্য নয়।

জানা গেছে,এই ৩৫ মামলার মধ্যে ৯টির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও দলের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা জড়িত বলে প্রতীয়মান হয়। সেই নেতা-কর্মী কারা, তাও তদন্ত কর্মকর্তা বের করতে পারেননি।

তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, অন্তত ৬টি মামলায় পুলিশ বলেছে,ভবিষ্যতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম,ঠিকানা ও তথ্যপ্রমাণ পাওয়া মামলা পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এগুলো হলো রামপুরা থানায় দায়ের করা রাকিব হোসেন (২৩),মারুফ হোসেন (২০) ও সোহাগ (১৯) হত্যা মামলা,যাত্রাবাড়ী থানার আরিফ (১৮), রবিউল ইসলামসহ (২৭) চারজনকে হত্যা মামলা; উত্তরা পশ্চিম থানার রাকিব (২২) হত্যা মামলা; ভাটারা থানার গনি শেখ (৪৫), হান্নান (২২) ও মনির হোসাইন (২৮) হত্যা মামলা; বাড্ডা থানার হাসান (১৮) হত্যা মামলা এবং কদমতলী থানার মাসুদ (৪০) হত্যা মামলা। চারটি মামলার ক্ষেত্রে একই ঘটনায় আরেক মামলা থাকার কথা বলেছে পুলিশ।

ফৌজদারি আইনবিশেষজ্ঞরা বলছেন,বিস্তৃত তদন্ত না করে মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না বুধবার বলেন, হত্যা মামলায় ঠিকমতো তদন্তই মূল কথা। সেটা না হলে ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায়।

চূড়ান্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে থানা পুড়িয়ে দেওয়ায় মামলা-সংশ্লিষ্ট আলামত নষ্টের কথা বলেছে পুলিশ। যেমন যাত্রাবাড়ী ও ভাটারা থানা থেকে দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে থানায় আগুনে নথি ও আলামত নষ্টের কথা বলা হয়েছে।

অবশ্য স্বজন হারানো পরিবারের কেউ কেউ বলছেন, পুলিশ ঠিকমতো তদন্তই করেনি। যেমন ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে সাতজন নিহত হন। তাঁদের একজন ওয়াসিমের বোন তামান্না খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ভাইয়ের খুনের ঘটনায় পুলিশ আলাদাভাবে মামলা করেছিল কি না, সেটা তাঁর জানা নেই। তাঁর ভাইকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। গুলি মাথায় আটকে ছিল। এখন পর্যন্ত পুলিশ তাঁর ভাইয়ের রক্তমাখা পোশাকটি জব্দ করেনি।

ফৌজদারি আইনজীবী আমিন গণি প্রথম আলোকে বলেন, যেকোনো খুনের ঘটনায় আলামত জব্দ করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, খুনের মামলা প্রমাণ করতে গেলে আলামত থাকতে হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন বলেন, আইন অনুযায়ী তদন্ত করে এসব মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। আদালত প্রতিবেদনগুলো গ্রহণ করেছেন।

সূত্রঃ প্রথম আলো

বিএম/জ/রা