পটুয়াখালী প্রতিনিধি
সাবেক স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেছেন, শেখ হাসিনার পতনের পর গোটা কেবিনেটকে দেশ থেকে পালাতে হয়েছে, যা জাতির কাছে ইতিহাস হয়ে থাকবে। শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনকে রুখতে ছাত্র আন্দোলন দেশের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। দেশ অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।
রোববার দুপুর ১টার দিকে পটুয়াখালী বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
একই দিন বেলা ১১টার দিকে জেলা বিএনপির নেতৃত্বে প্রথম দফা সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সংবাদ সম্মেলনে আলতাফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ করে জেলা বিএনপি।
সংবাদ সম্মেলনে আলতাফ চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার সরকার পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে দলীয় ক্যাডার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদে গুম-খুন নিপীড়ন অত্যাচার লুটপাট দুর্নীতি অর্থ পাচার অব্যাহত রেখেছে। পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছে ব্যাংক, শিল্প খাত এবং শিক্ষা ব্যবস্থাসহ সব সেক্টর। যে কারণে বায়তুল মোকাররমের খতিবও পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। গণহত্যা, বিডিআর হত্যা, হেফাজত হত্যা এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের গুম-খুনের দায়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের মুখোমুখি করব।
তিনি বলেন, গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে পরিকল্পিত সংখ্যা লঘু নির্যাতন ঘটাচ্ছে। ছাত্র জনতার এই অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করতে আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মার সঙ্গে ভারতের ‘র’-এর এজেন্ট ভয়ংকরভাবে কাজ করছে। বিএনপির ভেতরেও ভয়ংকর মোনাফেক ও বর্ণচোরা রয়েছে। এসব দিক থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
এদিকে বেলা ১১টায় পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন- জেলা বিএনপির মো. সিদ্দিকুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য গাজী আশ্রাফাকুর রহমান বিপ্লব, যুবদল সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটন, মৎস্যজীবীদলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক শাহআলম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মশিউর রহমান মিলন ও সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেনসহ শতাধিক নেতাকর্মী।
সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দেশ ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়েছে। বিএনপির একটি গোষ্ঠী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। জেলা বিএনপিকে অবগত না করে আলতাফ চৌধুরী গত ৩০ আগস্ট গণজমায়েত ঘটিয়ে অসাংগঠনিক কাজ করেছে। এছাড়াও দলীয় নির্দেশনা না মেনে তিনি আজীবন বহিষ্কৃত ও বিতর্কিত ওয়াহিদ সরোয়ার ওরফে জাসদ কালামকে পাশে নিয়ে সমাবেশ করেন। এসব লোকজন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনে কাজ করেছে।



