ডেস্ক রিপোর্ট:
আজ সুন্দরবন দিবস। তবে জাতীয়ভাবে সুন্দরবন দিবস পালনে সরকারের কাছে দাবি জানানো হলেও এখনও সরকারি ভাবে সুন্দরবন দিবস পালনের সাড়া মেলেনি। ২০০২ সাল থেকে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় কয়েকটি জেলায় ‘সুন্দরবন দিবস’ পালন করা হচ্ছে। বিগত বছরের ন্যায় এবারও খুলনায় বিভাগীয় পর্যায়ে সুন্দরবন দিবস পালন হচ্ছে। এছাড়া সুন্দরবন সংলগ্ন ৫টি জেলার ১৭টি উপজেলায় যুব ফোরাম এ বছর সুন্দরবন দিবস পালন করছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমি সুন্দরবন। অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল সুন্দরবন। আজ শুক্রবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘সুন্দরবন দিবস’। বিশ্ব ভালবাসা দিবসও আজ।
সুন্দরবনের প্রধান উদ্ভিদ প্রজাতি ‘সুন্দরী গাছ’। কারো কারো মতে সুন্দরী গাছের নাম অনুসারে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বনের নাম হয়েছে সুন্দরবন। আবার সমুদ্রের কাছে অবস্থান হওয়ায় ‘সমুন্দর’ শব্দ হয়ে প্রথমে ‘সমুন্দরবন’ ও পরে ‘সুন্দরবন’ নামকরণ হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। জাতিসংঘের ইউনেস্কো কমিশন ১৯৯৭ সালে সুন্দরবনের তিনটি অভয়ারণ্যকে বিশ্বঐতিহ্য এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। সুন্দরবনের প্রথম জরিপ কাজ ১৭৬৯-১৭৭৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়।
বন বিভাগের তথ্যমতে, দেশের মধ্যে বণ্যপ্রাণির বৃহত্তম আবাসস্থল সুন্দরবন। সুন্দরবনে ৫২৮ প্রজাতি উদ্ভিদ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার ১২৫টি, পাখি ৩৫৫ প্রজাতি, উভচর ১৪ প্রজাতি, বন্যশুকর ৪৭ হাজার ৫১৫টি, গুইশাপ ২৫ হাজার ১২৫টি, লোনাপানির কুমির ১৪০টি, ইরাবতী ডলফিন ৪৫১টি, বন্যপ্রণী ৫০৫ প্রজাতি, সরীসৃপ ৮৭ প্রজাতি, স্তন্যপায়ী ৪৯ প্রজাতি, হরিণ এক লাখ ৫২ হাজার ৪৪৪টি, সজারু ১২ হাজার ২৪১টি, গাঙ্গেয় ডলফিন ২২৫টি এবং সাদামাছ ২১০ প্রজাতি। সুন্দরবনের প্রধান বনজদ্রব্য হচ্ছে—সুন্দরীগাছ,পশুরগাছ, গেওয়াগাছ, ধুন্দুলগাছ ও কাকড়া গাছ। এছাড়া গোলপাতা, হেতাল, ছন, মধু ইত্যাদি সুন্দরবনে রয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি খুলনায় প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলন ‘সুন্দরবন ঘোষণার’ মধ্যে দিয়ে শেষ হয়। রূপান্তর, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাপা যৌথভাবে ওই সম্মেলনের আয়োজন করে। ওই সম্মেলনে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবসে ‘সুন্দরবন দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
তবে ২৩ বছরেও জাতীয়ভাবে ‘সুন্দরবন দিবস’ পালনে সরকারের সাড়া মেলেনি। সুন্দরবন দিবস পালনের আয়োজকরা সম্মেলন থেকেই সরকারের কাছে জাতীয়ভাবে ‘সুন্দরবন দিবস’ পালনের দাবি জানিয়ে আসছেন।



