আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতটি আসনে নিজেদের দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রত্যাহারের জন্য জামায়াতে ইসলামীর করা আবেদন নাকচ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী এখন আর ব্যালট পেপার থেকে প্রতীক পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। মূলত শরীক দলগুলোকে রাজনৈতিক ছাড় দিতেই এই সাতটি আসনে নিজেদের প্রতীক সরাতে চেয়েছিল জামায়াত।
নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ইসি তাদের চিঠিতে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৬(২) অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়ের পরেই কেবল চূড়ান্ত প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। একবার প্রতীক বরাদ্দ হয়ে গেলে এবং ব্যালট পেপার ছাপানোর প্রক্রিয়া শুরু হলে আইনিভাবে তা আর বাতিলের সুযোগ থাকে না। ফলে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীরা ব্যালটে তাদের মূল প্রতীক নিয়েই বহাল থাকবেন।
যে সাতটি আসনে জামায়াত তাদের প্রতীক সরাতে চেয়েছিল সেগুলো হলো— চট্টগ্রাম-৮, চট্টগ্রাম-১২, নরসিংদী-২, নরসিংদী-৩, নারায়ণগঞ্জ-৩, ভোলা-২ এবং সুনামগঞ্জ-১। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোটগত রাজনীতির কৌশল হিসেবে জামায়াত চেয়েছিল এই আসনগুলোতে শরীকদের সমর্থন দিতে এবং ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়াতে নিজেদের প্রতীক তুলে নিতে। তবে ইসির এই অনমনীয় অবস্থানের ফলে এখন ওই আসনগুলোতে জামায়াতের প্রতীক ব্যালটে উপস্থিত থাকবে, যা নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।



