দেশের বাজারে সাধারণ ক্রেতা ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বিশ্ববাজার ও স্থানীয় পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে মূল্যবান এই ধাতুর দাম বড় অঙ্কে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক লাফে তিন হাজার টাকারও বেশি হ্রাস করা হয়েছে।
আজ সোমবার (৬ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন এই পুনর্নির্ধারিত মূল্য আজ দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট থেকেই সারা দেশে কার্যকর করা হয়েছে।
বাজুসের নীতিনির্ধারকেরা জানিয়েছেন, দেশের স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেট বা পাইকারি বাজারে পাকা সোনা বা তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমার কারণেই মূলত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সার্বিক বাজার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে ভ্যাটসহ স্বর্ণের এই নতুন দাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের অলংকার তৈরীর স্বর্ণ কিনতে এখন থেকে ক্রেতাদের গুনতে হবে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৫point১৪২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম পড়বে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৭ টাকা।
একই সাথে সনাতন পদ্ধতির অলংকারের ক্ষেত্রেও মূল্য পরিমার্জন করেছে বাজুস। নতুন চার্ট অনুযায়ী, সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দামের এই নিম্নমুখী প্রবণতা বিয়ের মৌসুমে জুয়েলারি বাজারে বেচাকেনা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
এর আগে, মাত্র তিন দিন আগে গত শুক্রবার (৩ জুলাই) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম এক ধাক্কায় ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। সেই সময় ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের রেকর্ড মূল্য দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই বর্ধিত মূল্যের বড় একটি অংশ আজ কমিয়ে আনা হলো।
চলতি বছরে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ওঠানামার ক্ষেত্রে এক অনন্য রেকর্ড তৈরি হয়েছে। বছরের প্রথম সাত মাসেই এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৮৭ বার স্বর্ণের দামের এই আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সমন্বয় সাধন করা হলো, যার মধ্যে ৪৩ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৪৩ বার কমানো হয়েছে এবং ১ বার ভ্যাট কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।



