ডেস্ক রিপোর্টঃ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার সামরিক জান্তার নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে সম্প্রতি বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি৫) ব্যারাকের পতনের মধ্য দিয়ে সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে।
বিজিপি৫ ছিল মিয়ানমার সামরিক জান্তার উত্তর রাখাইনের সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি। আরাকান আর্মি (এএ)-র যোদ্ধারা ব্যারাকটি ঘিরে রেখে ভয়াবহ লড়াই চালায়। আরাকান আর্মির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, অনেক যোদ্ধাই খালি পায়ে মিশ্র অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করছে। ব্যারাক দখলের আগে সেনাদের আত্মসমর্পণ করতে আহ্বান জানানো হয়। এরপর শুরু হয় ভয়াবহ গোলাবর্ষণ।
জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং-এর জন্য এটি আরেকটি চরম অপমান। এই পরাজয়ের মাধ্যমে মিয়ানমার-বাংলাদেশ ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত পুরোপুরি আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। বর্তমানে শুধু রাজ্য রাজধানী সিত্তে জান্তার অধীনে রয়েছে।

২০০৯ সালে গঠিত আরাকান আর্মি, সামরিক ও কৌশলগতভাবে মিয়ানমারের অন্যতম শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। এই গোষ্ঠী এখন রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে।
এই যুদ্ধ এবং আরাকান আর্মির বিজয়ের পর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা এখনো রাখাইন রাজ্যে রয়েছে। তবে তাদের অনেককেই নতুন প্রশাসনের অধীনে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
জাতিসংঘ ইতোমধ্যে রাখাইনে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অবরোধের কারণে খাদ্য ও ত্রাণ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
বিএম/সজীব



