― Advertisement ―

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছে বিপুল সংখ্যক মানুষ। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগো, মায়ামি ও লস এঞ্জেলসসহ শনিবার (১৮ অক্টোবর) দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যে একই দিনে এই বিক্ষোভ হয়।

বিক্ষোভকারীরা ‘রাজতন্ত্র নয়, গণতন্ত্র’ এবং ‘সংবিধান বিকল্প কিছু নয়’- এমন শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেছেন। এই বিক্ষোভের আগে ট্রাম্পের সহযোগীরা অভিযোগ করেছেন যে, এর সাথে বামপন্থী অ্যান্টিফা আন্দোলনের যোগসূত্র রয়েছে এবং এর নিন্দা করে তারা এই বিক্ষোভের নাম দিয়েছেন ‘হেইট আমেরিকা র‍্যালি বা ‘আমেরিকাকে ঘৃণা সমাবেশ’।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে লাখো মানুষ ‘নো কিংস’ নামে আন্দোলনে অংশ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে। তাদের মূল বার্তা ছিল—দেশটি ক্রমশ কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে যাচ্ছে, অথচ যুক্তরাষ্ট্রে কোনো রাজা বা একনায়ক শাসন চলতে দেওয়া যাবে না।

এটি চলতি বছরের জুন মাসে আয়োজিত ঐতিহাসিক বিক্ষোভের দ্বিতীয় সংস্করণ। আগেরবারের মতো এবারও এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পরিণত হয়।

নিউইয়র্ক পুলিশ বলছে, লক্ষাধিক মানুষ ওই শহরে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। টাইম স্কোয়ারেই বিশ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার একজন পুলিশ কর্মকর্তা।

শিকাগোর গ্রান্ট পার্কের বাটলার ফিল্ডে অন্তত ১০,০০০ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন, অনেকেরই হাতে ছিল ট্রাম্প-বিরোধী প্ল্যাকার্ড, কেউবা ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের সমালোচনামূলক পোস্টার বহন করছিলেন।

টিভি চ্যানেলগুলো সরাসরি সম্প্রচারের সময় দর্শকদের আগাম সতর্ক করে জানায়—তারা প্রদর্শিত ভাষার জন্য দায়ী নয়। পরবর্তীতে শিকাগো ট্রিবিউন জানায়, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১ লক্ষ ছাড়িয়েছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ব্যবহারের একটি বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছেন। তিনি কংগ্রেসের অনুমোদন করা তহবিল ছাড় করাতে নির্বাহী আদেশ ব্যবহার করেছেন।

এ ছাড়াও ফেডারেল সরকারের একাংশ ভেঙ্গে দিয়েছেন এবং অনেক দেশের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছেন। বিভিন্ন রাজ্য গভর্নরের আপত্তি সত্ত্বেও ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তার পদক্ষেপ দেশ পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ছিলো। তিনি স্বৈরশাসক বা ফ্যাসিবাদী হওয়ার অভিযোগকে উন্মাদনা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

অপরদিকে তার সমালোচকরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের কিছু পদক্ষেপ অসাংবিধানিক, যা আমেরিকার গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।