― Advertisement ―

মরদেহ নিয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরায়েল থেকে ফেরত দেওয়া ৩০ ফিলিস্তিনির মরদেহে ভয়াবহ নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। ইসরায়েলের সেনাদের নির্যাতনে প্রাণ হারানো ওই ফিলিস্তিনিদের মরদেহ গত শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) গাজায় পাঠানো হয়।

রেড ক্রস কমিটির মাধ্যমে পাঠানো এসব মরদেহ হাতে পাওয়ার পর এমন অভিযোগ আনে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। এদিকে একই দিন ইসরায়েলের কাছে তিন মরদেহ হস্তান্তর করেছে হামাস। তবে গতকাল শনিবার ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মরদেহ তিনটি গাজায় থাকা ইসরায়েলি বন্দীদের নয়।

ফিলিস্তিনিদের মরদেহে নির্যাতনের চিহ্ন নিয়ে সমালোচনা আরো উস্কে দেয় এক ফিলিস্তিনি বন্দীকে নির্যাতনের একটি ভিডিও প্রকাশের মাধ্যেমে। ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর শীর্ষ আইনজীবী ইয়াফাত তোমের-ইয়েরুশালমি ওই ভিডিও প্রকাশ করলে তাকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

গত বছর প্রকাশ হওয়া ওই ভিডিওতে ইসরায়েলের কুখ্যাত সদে তাইমান কারাগারের এক ফিলিস্তিনি বন্দীকে ইসরায়েলি সেনাদের নির্যাতন করতে দেখা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই ফিলিস্তিনি ইসরায়েলের সেনাদের দ্বারা যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন।

ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েল শুক্রবার পর্যন্ত মোট ২২৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত পাঠিয়েছে।

গত শুক্রবার পর্যন্ত আগের ২১ দিনে ইসরায়েল আরও যেসব ফিলিস্তিনির মরদেহে পাঠিয়েছে, সেগুলোতেও নানা ধরনের নির্যাতনের চিহ্ন ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির চিকিৎসকেরা। এসব মরদেহে কাপড় দিয়ে চোখ বাঁধা বা হাত-পা বাঁধার চিহ্ন রয়েছে, আগুনে পোড়ার ক্ষত আছে, পাশাপাশি দাঁতসহ কিছু অঙ্গ না থাকার প্রমাণ রয়েগেছে।

গতকাল গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ বলেছেন, সবশেষ যেসব মৃতদেহ ইসরায়েল ফেরত পাঠিয়েছে, সেগুলো শনাক্ত করা সবচেয়ে কঠিন ছিল। কারণ ‘অধিকাংশ মরদেহ নষ্ট হয়ে গেছে বা ট্যাংকের চাপায় হাড় পর্যন্ত ভেঙে গেছে। কিছু ব্যক্তিকে মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল।’ আল জাজিরাকে বলেন আল-বুরশ।

এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১০ অক্টোবর ঘোষিত যুদ্ধবিরতি অনুযায়ী, হামাস জীবিত ২০ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে। বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে।