নিজস্ব প্রতিবেদক: গত এক মাসে ধরেই বরিশালে অস্থির চালের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি, বরং আরও বেড়েছে কোনো কোনো চালের দাম। এদিকে, চড়া ইলিশসহ অন্যান্য মাছের দামও।
আজ শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) নগরের বাংলা বাজার, চৌমাথান বাজার, পোর্টর রোড বাজার, রূপাতলী বাজারসহ বেশকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
বাজার নিয়ন্ত্রণে গত ৮ জানুয়ারি নগরীর ফরিয়াপট্টি চালের আড়তগুলোতে অভিযান চালান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে কাউকে জরিমানা না করা হলেও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেওয়া হয়।
তবে এর কোনো প্রভাবই নেই বাজারে। আমনের এ ভরা মৌসুমে কমার বদলে উল্টো বেড়েছেই চলছে চালের দাম। কিছুতেই বাজারের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না।
বাজার ঘুরে জানা গেছে, ২৫ কেজির মবনিকেট চালের বস্তা ১০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮৫০-১৯০০ টাকায়, বুলেট চাল বস্তায় ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২৮০-১৩০০ টাকায়, পাইজাম বস্তায় ১০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ টাকায়। এ ছাড়া আটাশ বালাম ১৪৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে চালের বাজারের এই নাজেহাল অবস্থায় বেকায়দায় নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তরাও। তারা জানান, আমনের ভরা মৌসুম হলেও চালের বাজারে অস্থিরতা কমছে না। এতে চাপ বাড়ছে ভোক্তার ঘাড়ে।
পোর্ট রডে বাজারে বাজার করতে আসা রহিম নামে এক ক্রেতা বলেন, বাজার এখন চালে ভরপুর, তবুও বাড়ছে দাম। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বাজার লুট করছে। আর পকেট কাটছে ভোক্তার। বাজার নিয়ন্ত্রণের কথা শুধু মুখে বললেই হবে, মাঠ পর্যায়েও সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
চালের বাজারের এই অস্থিরতা অকপটে স্বীকার করেন খুচরা ব্যবসায়ীরাও। তারা বলেন, মিল পর্যায়ে চালের দাম বাড়ায় এর প্রভাব খুচরা পর্যায়েও পড়ছে।
ফরিয়াপট্টি চাল বিক্রেতা মিজানুর রহমান জানান, মিনিকেটের দাম বাড়ছে। তবে সামান্য কমেছে নাজিরশাইলের দাম। মূলত চালের দাম বাড়ান মিল মালিকরা। আর সরকার অভিযান চালায় খুচরা বাজারে। এভাবে কখনোই চালের দাম কমানো সম্ভব না। দাম বাড়ায় কমেছে চালের বেচাকেনাও। বাড়তি দামের প্রভাবে মানুষ চাল কম কিনছেন।
অস্থির হয়েছে ইলিশের বাজারও। কেজিপ্রতি ১০০-২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে সুস্বাদু এ রুপালি মাছ।
চৌমাথা বাজারের ইলিশ বিক্রেতা মো. লিটন হোসেন বলেন, ইলিশ কম ধরা পড়ছে। এতে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে। দিন দিন ইলিশের দাম ভোক্তার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে কমছে বেচাবিক্রিও।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৪০০-২৫০০ টাকায়। এছাড়া দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ৩২০০ টাকা, ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২৮০০ টাকা, ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২০০০-২২০০ টাকা হারে বিক্রি হচ্ছে, আর ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১২০০-১৩০০ টাকা ও ৩০০-৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের জন্য গুনতে হচ্ছে ৮০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত।
তবে অপরিবর্তিত রয়েছে অন্যান্য মাছের দাম। বাজারে প্রতি কেজি রুই ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৪৮০ টাকা, চাষের শিং ৫৫০ টাকা, চাষের মাগুর ৫০০ টাকা, চাষের কৈ ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা, কোরাল ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, টেংরা ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা, চাষের পাঙাশ ১৮০ থেকে ২৩০ টাকা ও তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া, প্রতি কেজি পোয়া ৪৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, আইড় ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা, দেশি কৈ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, শিং ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, শোল ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়।



