বরিশাল মেইল ডেস্ক
সরকার পতনের পর বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় চাঁদার দাবিতে বৃদ্ধকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবদল নেতা ওবায়েদুল হাসানের সদস্যসচিবের পদ স্থগিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় যুবদলের দপ্তর সম্পাদক এম এন সোহেল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য ওবায়েদুলের সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে। ওবায়দুল বাবুগঞ্জের চাঁদশাপা ইউনিয়নের ঘটকের চর গ্রামের মৃত সেকান্দার আলী ছেলে।
জানা যায়, গত ১১ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টায় একই গ্রামের সুলতান হাওলাদার (৬৫) নামক এক বৃদ্ধকে পিটিয়েছে ওবায়েদুল ও তার সহযোগীরা। সুলতানকে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ওবায়েদুলকে প্রধান করে মোট চারজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় ৫-৬ জনকে আসামি করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহতের পুত্রবধূ সাদিয়া আফরিন নুপূর।
তিনি জানান, সরকার পতনের পর ওবায়েদুল তার স্বামী মনিরজ্জামান জুয়েলের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
ঘটনার দিন জুয়েলের খোঁজে ওবায়েদুলের নেতৃত্বে অভিযুক্তরা বাড়িতে এসে গালাগাল করেন। এ সময় তার শ্বশুর (নিহত সুলতান) ঘর থেকে বেরিয়ে গালাগালের কারণ জানতে চান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাবল দিয়ে আঘাত করলে শ্বশুর নিহত হন।
নুপূর অভিযোগ করেন, ‘ওবায়েদুল হাসান জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম তসলিম উদ্দীনের সহযোগী।
তসলিম উদ্দিনকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আমাদের ভয় দেখিয়েছেন। আর তসলিম উদ্দিনের নির্দেশনায়ে পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি। আসামিরা যুবদল নেতা তসলিম উদ্দিনের সঙ্গে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মামলা তুলে নিতে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক খাইরুল আলম বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নিহতদের পরিবারকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি তাকে জানাননি বাদী নুপূর। যদি তাদের হুমকি দেওয়া হয়, অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে জেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক এইচ এম তসলিম উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।



