হুমায়ুন কবির: বরিশাল বিভাগে এবার প্রায় ৫৫ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করচ্ছেন কৃষকরা। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টনেরও বেশি সবজি উৎপাদনের। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো লাভ হবে কৃষকদের।
জানা গেছে, বানারীপাড়া উপজেলার গুঠিয়া, গৌরনদীর উপজেলার বামরাইল, জল্লা ও হারতা ইউনিয়ন এবং ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ও মেদুয়া ইউনিয়নের মাঝের চরসহ বিভিন্ন গ্রামে শীতকালীন সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, শিম, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, পালং ও লাল শাকসহ নানা জাতের সবজি চাষ করছেন কৃষকরা।
বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, গত বছর বরিশাল ৬ জেলায় গত বছর ৫১ হাজার ৭৪ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও সেসময় ৫৪ হাজার ৯০৩ হেক্টর জমিতে শীতকালীর সবজি আবাদ হয়েছিল। এবার ৫৫ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫১০ মেট্রিক টন শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে সবোর্চ্চ ভোলায় ১৩ হাজার ৫৯ হেক্টর, বরিশাল জেলায় ১২ হাজার ৫১৬ হেক্টর, পিরোজপুরে ৮ হাজার এক হেক্টর, পটুয়াখালী জেলায় ৭ হাজার ৭০৪ হেক্টর এবং বরগুনা জেলায় ৫ হাজার ৭১৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর থেকে রোববার ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ৯ হাজার ৩০৮ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ শুরু করেছেন কৃষককরা। ধীরে ধীরে আবাদ আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারি লিটন কুমার মিস্ত্রি। তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌসুমের শেষ পর্যন্ত উৎপাদিত সবজির লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণে অতিক্রম করতে পারে।
বানারীপাড়া উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের ডহরপাড়া গ্রামের সবজি চাষী মনির হোসেন জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তিনি দেড় একর জমিতে বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, শালগম ও পালং শাক চাষ করেছেন। কীটনাশক প্রয়োগ না করায় উৎপাদিত এসব সবজির চাহিদাও রয়েছে বেশ।
একই গ্রামের সবজি চাষী ফিরোজ হাওলাদার জানান, শীতকালীন সবজি চাষে খরচ কম লাগে। এতে সহজেই লাভবান হওয়া যায়। এবার তিনি ৫০ শতক জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ করচ্ছেন। আগামী বছর চাষের জমি আরও বৃদ্ধি করবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দৌলতখান উপজেলার মদনপুরের কৃষক নিজাম ফরাজি, কৃষক ইউসুফ মিজি জানান, তারা সাত থেকে আট বছর ধরে শিম চাষ করছেন। এ বছরও ৬০ শতক জমিতে শিমের চাষ করছেন তারা। আশা করছেন ভাল ফলন হবে।
বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শিকদার জানান, গত বছর কম খরচে শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকরা অনেক লাভবান হয়েছেন। তাই এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অধিক জমিতে সবজির আবাদ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এখানকার উৎপাদিত সবজি দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা সরাসরি জমি থেকে ক্রয় করে নিয়ে যান।



