― Advertisement ―

‘নিষ্প্রভ’ কেইনের কাঁধে সতীর্থদের আস্থার হাত

বুন্ডেসলিগায় গোলের পর গোল করে ইউরোতে খেলতে এসে নিজেকে যেন খুঁজে ফিরছেন হ্যারি কেইন। টুর্নামেন্টে এখনও দেখা যায়নি তার সেরা চেহারা। তবে এনিয়ে একদমই...

ফুটবলের কাছে হারল বিজ্ঞান! ‘ব্রাজিল হারবে’ বলা জোয়াকিম ক্লেমন্টকে ট্রোল করলেন নেইমার

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জাপানের বিরুদ্ধে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের নাটকীয় ও রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর মাঠের ভেতরের লড়াই ছাপিয়ে মাঠের বাইরের এক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এখন বিশ্ব মিডিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে টানা এক দশক ধরে ফুটবল ম্যাচ নিয়ে গাণিতিক মডেলের সাহায্যে নিখুঁত ভবিষ্যদ্বাণী করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করা বিখ্যাত জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমন্ট এবার ব্রাজিলকে নিয়ে এক মস্ত বড় ভুল তথ্য ও ভবিষ্যদ্বাণী দিয়ে বসেন। ক্লেমন্ট জোরালোভাবে দাবি করেছিলেন, নকআউট পর্বের এই ম্যাচে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা জাপানিজ সামুরাইদের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেবে। তবে মাঠের লড়াইয়ে সেলেসাওরা তাঁর এই বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক মডেলের থিওরিকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করে মাঠ ছেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এনআরজি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে জোয়াকিম ক্লেমন্টের ভবিষ্যদ্বাণীকে সত্যি করার ইঙ্গিত দিয়ে জাপান ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হয় ল্যাটিন আমেরিকার পরাশক্তিরা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লিদের একের পর এক আক্রমণের মুখে ম্যাচের ৫৬তম মিনিটে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) মার্টিনেল্লির করা এক জাদুকরী ও দর্শনীয় গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটে কার্লো আনচেলত্তির দল। ব্রাজিলের এই মহানাটকীয় জয়ের ফলে গত এক দশক ধরে ক্লেমন্টের ধরে রাখা শতভাগ সফলতার রেকর্ডটি মাটিতে মিশে যায়।

বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদের এই বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশ এভাবে মুখ থুবড়ে পড়ার পর সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি ব্রাজিলের পোস্টার বয় ও গ্লোবাল ফুটবল আইকন নেইমার জুনিয়র। মাঠে সরাসরি অংশ না নিলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সতীর্থদের দুর্দান্ত জয় উদযাপনের পাশাপাশি ক্লেমন্টকে এক হাত নিয়েছেন তিনি। নিজের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট শেয়ার করে নেইমার অত্যন্ত ব্যঙ্গাত্মক ও উপহাসের সুরে লিখেছেন, “শ্রদ্ধেয় জোয়াকিম ক্লেমন্ট… দয়া করে আগামী বিশ্বকাপে (২০৩০) আবার নতুন কোনো মডেল নিয়ে চেষ্টা করবেন!” নেইমারের এই স্লেজিং মুহূর্তের মধ্যেই ফুটবল বিশ্বে ভাইরাল হয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, ক্লেমন্ট তাঁর নিজস্ব অর্থনৈতিক ও পরিসংখ্যানগত গাণিতিক মডেলের ওপর ভিত্তি করে চলতি বছরের ৯ এপ্রিল ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে একটি চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি তাঁর বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যামূলক কলামে দাবি করেছিলেন যে, এবার পর্তুগালকে ফাইনালে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে নেদারল্যান্ডস। কিন্তু ফুটবল ট্র্যাজেডি ও অনিশ্চয়তার খেলায় ডাচরা নকআউট পর্বেই মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে, যার ফলে ক্লেমন্টের পুরো টুর্নামেন্ট প্রেডিকশনই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফুটবল যে কেবল গাণিতিক সূত্রে বাঁধা কোনো অর্থনীতি নয়, বরং মাঠের ৯০ মিনিটের আবেগ ও দক্ষতার খেলা—নেইমারের এই ব্যঙ্গ যেন সেই বাস্তবতাই আরও একবার প্রমাণ করল।