― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে আইন কলেজের ছাত্রের মৃত্যু; মারধর ও নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগ পরিবারের

ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকা মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত (২৪) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তিনি ফরিদপুর আইন মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং মধুখালী চিনিকলের একজন নিয়মিত কর্মচারী ছিলেন। রোববার (২১ জুন, ২০২৬) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম। তবে নিহতের পরিবারের সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ—ডিবি পুলিশ হেফাজতে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়ে প্রান্তকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। অন্যদিকে, পুলিশের দাবি—গ্রেপ্তারকৃত যুবক কোনো নির্যাতনের শিকার হননি, বরং উচ্চ রক্তচাপ ও তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত কারণে ব্রেন স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

নিহত প্রান্তর মা মির্জা খাদিজা আক্তার নিপা ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বাবার মৃত্যুর পর প্রান্ত পড়াশোনার পাশাপাশি চিনিকলে চাকরি করে মা ও ছোট ভাইয়ের পুরো সংসার একাই চালিয়ে আসছিলেন। শনিবার বিকেলে মিল থেকে ফিরে রাস্তার পাশে দাঁড়ালে ডিবি পুলিশের একটি দল এসে কোনো কারণ ছাড়াই তাঁকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। পরবর্তীতে ঘরের ভেতরে এনেও নির্যাতন চালানো হয় এবং কোনো মাদক বা অবৈধ বস্তু উদ্ধার করতে না পেরে রাজনৈতিক পরিচয়ের অজুহাতে তাঁকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রান্তর মায়ের অভিযোগ, “আমার চোখের সামনে থেকেই ছেলেকে মারতে মারতে ডিবির গাড়িতে তোলা হয়। হেফাজতে বর্বর নির্যাতন করেই আমার সন্তানকে মেরে ফেলা হয়েছে।” তিনি এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন অবশ্য নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, শনিবার সন্ধ্যায় মধুখালীর গোন্দারদিয়া এলাকা থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ প্রান্তকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে গভীর রাতে মাদকবিরোধী অভিযান শেষে ভোরে তাঁকে ফরিদপুর ডিবি কার্যালয়ের হাজতকক্ষে রাখা হয়। ভোর ৪টার দিকে প্রান্ত ফজরের নামাজ আদায় করার পর হঠাৎ অন্য আসামিদের জানান যে তাঁর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও পরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রান্তর শরীরে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই এবং তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বেও দুটি মাদক মামলা ছিল।

এদিকে, এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সংগঠন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান ফেসবুকে প্রান্তর সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে তাঁকে মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা দাবি করেন এবং পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর এই ঘটনার সঠিক রহস্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান। তবে নিহতের পরিবার ও চাচী নাসরিন জামান স্পষ্ট করেছেন যে, অতীতে ছাত্ররাজনীতির সাথে আংশিক সম্পৃক্ততা থাকলেও বর্তমানে প্রান্তর কোনো দলীয় পদ বা রাজনৈতিক কার্যক্রম ছিল না। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, প্রান্ত কোনো নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন কি না এবং তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় খতিয়ে দেখা হবে