বরিশাল মেইল ডেস্ক
পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারতের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ও শুল্ক কমানাের প্রভাব পড়েনি ঢাকার বাজারে। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে মসলাজাতীয় পণ্যটি। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানির প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। দেশে পেঁয়াজ ঢুকলে দর কমে আসবে।
গতকাল রোববার ঢাকার কয়েকটি খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগের মতোই প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১১৫ টাকা এবং আমদানি করা পাকিস্তানি পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১০৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, এ দর গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫০ শতাংশের মতো বেশি।
দেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়, তা নিয়ে স্থানীয় চাহিদা পুরোপুরি মেটে না। প্রতিবছরই ৯ থেকে ১০ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও দর সহনীয় পর্যায়ে থাকায় এর ৯০ শতাংশ পেঁয়াজই আসে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে। ফলে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করলে বাংলাদেশের বাজারে এর বড় একটা প্রভাব পড়ে। যেমন– গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ওই দিনই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশের বাজার। তখন মাত্র পাঁচ-ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে কেজিতে বেড়ে যায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এক পর্যায়ে দ্বিশতক ছুঁয়েছিল দর।
তবে বিধিনিষেধ আরোপের কারণে যেভাবে দেশে দাম বেড়ে যায়, সেটি তুলে নেওয়ার পর সেই চিত্র দেখা যায়নি। গত শুক্রবার ভারত প্রতি টন পেঁয়াজ সর্বনিম্ন ৫৫০ ডলারে রপ্তানির যে শর্ত দিয়েছিল, তা প্রত্যাহার করেছে। পাশাপাশি রপ্তানি শুল্ক ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে নির্ধারণ করেছে ২০ শতাংশ।
কারওয়ান বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী এরশাদ আলী বলেন, অনেক দিন ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ। তবে পাকিস্তান, তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আসছে। কিন্তু ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা শুরু হলে দাম অনেক কমে যাবে।
তবে ঢাকায় দাম না কমলেও বন্দর এলাকায় কমছে। জানা গেছে, এরই মধ্যে যশোরের শার্শা ও বেনাপোল এবং হিলি বন্দরে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে।
এ বিষয়ে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশিদ বলেন, এরই মধ্যে ভারত থেকে পেঁয়াজ আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। প্রক্রিয়া শেষে দেশে আসতে সপ্তাহখানেকের মতো লাগতে পারে। এরই মধ্যে হিলি এলাকায় কেজিতে ৫ টাকার মতো কমে গেছে। তবে পেঁয়াজ আসা শুরু হলেও কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকার মতো কমতে পারে।



