পূর্ব ইন্দোনেশিয়ায় মাউন্ট লেওয়াতবি লাকি-লাকি আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আশেপাশের গ্রামগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। বিস্ফোরণের পর কর্তৃপক্ষ কয়েকটি গ্রাম খালি করে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে বাসিন্দাদের। আগ্নেয়গিরির চারপাশে ৭ কিলোমিটারের মধ্যে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট লেওয়াতবি লাকি-লাকি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে মৃত্যু ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ
বরিশাল মেইল ডেস্কঃ রবিবার গভীর রাতে পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে অবস্থিত মাউন্ট লেওয়াতবি লাকি-লাকি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে গলিত লাভা, আগুনের লেলিহান শিখা এবং পাথর উদগিরণ শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যায়। বিস্ফোরণের পরপরই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং প্রচণ্ড বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরি ও ভূতাত্ত্বিক বিপর্যয় সংস্থার মুখপাত্র হাদি উইজায়া জানান, এ বিস্ফোরণের ফলে আগ্নেয়গিরির সতর্কতার স্তর সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আগ্নেয়গিরির চারপাশে ৭ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে এবং প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরের বেশ কয়েকটি গ্রামে লাভা ও আগ্নেয়গিরির ছাই আঘাত হানে, যার ফলে অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি জানিয়েছে, পূর্বে ৯ জন নিহত হওয়ার তথ্য জানা গেলেও পরবর্তীতে তা সংশোধন করে ৬ জন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। পূর্ব ফ্লোরেস এলাকার স্থানীয় কর্মকর্তা হেরোনিমাস লামাউয়ারান জানান, বিস্ফোরণের ফলে ৭টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সোমবার সকাল থেকে এসব এলাকার বাসিন্দাদের ২০ কিলোমিটার দূরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ক্যাথলিক প্রধান গ্রাম হোকেং-এ বসবাসরত সেন্ট গ্যাব্রিয়েল ফাউন্ডেশনের প্রধান আগস্টা পালমা জানান, একজন সন্ন্যাসিনী নিহত এবং আরেকজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর কথায়, “অগ্নিশিখা এবং ছাইয়ের বৃষ্টির মধ্যে অন্ধকারে আতঙ্কিত অবস্থায় আমাদের সন্ন্যাসিনীরা দৌড়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।”
এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, হোকেংসহ অন্যান্য গ্রামগুলোতে আগ্নেয়গিরির ছাই ও গলিত লাভা ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে অনেক ঘরবাড়ি ছাইয়ে ঢেকে গেছে এবং বেশ কিছু ঘর পুড়ে গেছে। বর্তমানে কতজন বাসিন্দা স্থানান্তরিত হয়েছেন এবং কতগুলো ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার সঠিক তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
ইন্দোনেশিয়া ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা’ বা ‘প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের সম্মুখীন হয়। মাউন্ট লেওয়াতবি লাকি-লাকি-এর বিস্ফোরণের আগে মে মাসে হালমাহেরা দ্বীপের মাউন্ট ইবু এবং নর্থ সুলাওয়েসির রুয়াং আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরিত হয়েছিল, যেখানে হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিএম/সজীব



