আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে গত ৮ নভেম্বর এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনায় মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। তিনি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দায়ী করেছেন, কারণ তাঁর সময়মতো সরে না দাঁড়ানোর ফলে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য প্রতিযোগিতার সুযোগ হারিয়েছে।
পেলোসির অভিযোগ: বাইডেনের সরে না দাঁড়ানো ডেমোক্র্যাটদের ক্ষতি করেছে
নিউইয়র্ক টাইমসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেলোসি বলেন, “যদি প্রেসিডেন্ট বাইডেন নির্বাচনের আগে সরে দাঁড়াতেন, তাহলে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি একটি সুষ্ঠু প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া আয়োজিত করতে পারত, যেখানে আরও প্রার্থী থাকতে পারতেন।” পেলোসি দাবি করেন, বাইডেনের শেষ মুহূর্তের সরে দাঁড়ানো এবং তড়িঘড়ি করে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত দলের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, “যদি প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও আগে শুরু হত, তাহলে তাতে কমলা হ্যারিস এবং অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা শক্তিশালীভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারতেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কমলা আরও বেশি জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারতেন এবং আরও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারতেন।”
কমলা হ্যারিসের প্রশংসা এবং প্রার্থী বাছাইয়ে অসমাপ্ততা
পেলোসি কমলা হ্যারিসের প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন, “তিনি জনগণের মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছেন।” তবে, তিনি মন্তব্য করেছেন যে, যদি হ্যারিস প্রার্থী বাছাইয়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন, তাহলে তিনি সম্ভবত জিততেন। পেলোসি বলেন, “হয়তো কমলা আরও বেশি শক্তিশালী হতেন, জনগণের আরও কাছে যেতে পারতেন।” তবে, বাইডেনের সিদ্ধান্তের কারণে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ছিল না, এবং এই ব্যাপারে তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন।
বাইডেনের সরে দাঁড়ানো এবং তড়িঘড়ি কমলা হ্যারিসের মনোনয়ন
নির্বাচনের আগে বাইডেনের নির্বাচনে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত একটি বড় ধাক্কা ছিল। যদিও বাইডেন প্রথমে আবার নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কের পর তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এর পর ডেমোক্র্যাটিক পার্টি খুব দ্রুত কমলা হ্যারিসকে মনোনীত করে। পেলোসি এই সিদ্ধান্তকে তাড়াহুড়োর মধ্যে নেওয়া একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছেন, যা দলটির প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াকে অপ্রত্যাশিত এবং অসম্ভব করে তোলে।
নির্বাচনে পরাজয় এবং রিপাবলিকানদের জয়
এদিকে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হন, যা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল। বাইডেনের সিদ্ধান্ত এবং দলের মধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এর ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটদের ভবিষ্যৎ
পেলোসি এবং অন্যান্য নেতারা এখন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর আলোচনা করছেন। বাইডেনের পরাজয়ের পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পর্যালোচনা চলছে, বিশেষ করে কমলা হ্যারিসের নেতৃত্ব এবং দলের নতুন কৌশল নিয়ে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ডেমোক্র্যাটদের আগামী দিনের পথ কী হবে, তা নিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া, পেলোসি আরও বলেন, “যদি প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া আরও আগে ঘটত, তাহলে পরিস্থিতি অনেক আলাদা হতে পারত।” তাঁর মতে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতি মানুষের আস্থা ফেরানোর জন্য প্রার্থী নির্বাচন ও নেতৃত্বের প্রক্রিয়া আরও সুষম ও সময়মত হওয়া উচিত ছিল।
দলের ভিতর অস্বস্তি এবং নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন
পেলোসির এই মন্তব্য ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভিতরে এক নতুন অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। দলের মধ্যে যে নেতৃত্বের অভাব ছিল, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সংশয় এবং ভবিষ্যত নেতৃত্বের প্রশ্ন উঠছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যতের জন্য নতুন নেতৃত্ব এবং কৌশল প্রয়োজন বলে অনেকেই মনে করছেন।
কমলা হ্যারিসের ভবিষ্যত
পেলোসি, কমলা হ্যারিসের প্রতি একধরনের সমর্থন জানিয়েও বলেন, “কমলা নিজের ক্ষেত্রে অনেক কিছু অর্জন করেছেন, তবে প্রার্থী বাছাইয়ের পর তাকে আরও বেশি শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।” তাঁর মতে, হ্যারিসের নেতৃত্বে দল নতুন করে উঠে আসতে পারতো, যদি সুষ্ঠু প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হত।
সব মিলিয়ে, বাইডেনের পরাজয় এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কের মধ্যে, দলের ভবিষ্যত কি হবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সুত্রঃ রয়টার্স ও বিবিসি



