― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

নির্বাচনে ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের ৭ দিনের নিবিড় টহল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে দলের শীর্ষ নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আর বিভিন্ন জেলার তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনায় নির্বাচনের আগেই ভোটের মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ফলে দেশের বিভিন্ন জেলায় বাড়তি নজরদারি জোরদার করেছে পুলিশ।

ভোটের আগে ও ভোটের দিন নাশকতা, সহিংসতা এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির আশঙ্কায় কয়েকটি জেলাকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দেশের অন্তত ১০টি জেলায় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সহিংসতার খরব গণমাধ্যমে এসেছে।

এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নির্বাচনের আগের চার দিন সারা দেশে নিবিড় টহল চালাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে এ টহল দেওয়া হবে। ভোটের পরও দুই দিন থাকবে পাহারা। সব মিলিয়ে সাত দিন মাঠে থাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য থাকবেন এক লাখ। পুলিশ থাকবে দেড় লাখের মতো। সবচেয়ে বেশি থাকবেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য। এই বাহিনীর পৌনে ছয় লাখ সদস্য কাজ করবেন ভোটের নিরাপত্তায়।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও ফরিদপুর জেলায় অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে ভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর একই বছর গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর ওপর হামলা এবং পরে গত বছরের জুলাইয়ে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে হামলা, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনাকে বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানাচ্ছে।

এই চার জেলায় নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আসা ঠেকাতে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এই বাড়তি নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।

এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে। সবশেষ গতকাল শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক জামায়াত নেতার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টের জেরে সম্প্রতি সংঘর্ষে জড়ান শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিএনপি ও জামায়াত কর্মী-সমর্থকরা।

শেরপুরের শ্রীবরদী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুল লতিফ জানিয়েছেন, ‘ঝিনাইগাতীতে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে জামায়াত নেতা হন। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।’

নিহত জামায়াত নেতার নাম রেজাউল করিম। তিনি শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন।

স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল হাশিম বলেন, ‘ওই অনুষ্ঠানে জামায়াতের সমর্থকরা আগে থেকে গিয়ে চেয়ারে বসেছিলো। বিএনপির লোকজন যখন যায়, তখন তারা চেয়ার পায়নি। এই নিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন থাকবে–– এ নিয়ে বেশ আগে থেকেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিশেষ করে, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর কদিন আগে দুর্বৃত্তের গুলিতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর এই শঙ্কা বাড়তি মাত্রা পেয়েছে।

আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, সংঘাতের শঙ্কাও ততই বাড়ছে কি না এবং শেষ পর্যন্ত ভোটে তার বিরূপ প্রভাব পড়বে কি না সেই শঙ্কার কথাও বলছেন পর্যবেক্ষক-বিশ্লেষকরা।

নির্বাচন সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণ কিংবা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, শরীয়তপুর, সিরাজগঞ্জসহ অন্তত আরও ১০ জেলায় বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, এসব সংঘাতের বেশিরভাগই ঘটেছে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি জোটের সমর্থকদের মধ্যে।

নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম বলছেন, নির্বাচন কমিশনকে যেকোনো ছোট ঘটনায়ও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। নিরাপত্তা নিয়ে যে শঙ্কা বা নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে সেটিও কমিশনের জন্য চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরো বলেন, ‘ছোট ছোট ঘটনাগুলোও কমিশনকে অ্যাড্রেস করতে হবে, যাতে নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের শঙ্কাটা আস্থায় পরিণত করা যায়।’

রাজনৈতিক দলের নেতাদেরকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযত থাকার পরামর্শ দিয়ে জনাব আলীম বলেন, ‘কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্যে উসকানির একটা আবহ আমি পাচ্ছি, এটা পরিহার করা প্রয়োজন।’

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও পুলিশ সূত্র থেকে জানা যায়, নির্বাচনে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোর ভোটকেন্দ্রগুলোতে ২৫ হাজারের বেশি বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার ক্যামেরায় সিম কার্ড সংযুক্ত থাকবে।

সূত্র বলছে, কোনো ভোট কেন্দ্রে গোলমাল শুরু হলে জরুরি বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে এসব ক্যামেরা থেকে সরাসরি ইন্টারনেটের মাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিং করা যাবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘অপরাধ করে কেউ যেন তা অস্বীকার করতে না পারে, এ জন্য ডিজিটাল নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এতে করে কোনো অভিযোগ এলে বা কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ফুটেজ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, ‘ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসা, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান এবং নিরাপদে ঘরে ফেরা—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটি নিশ্চিত করতে নির্বাচনের আগে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি না হয়, আমরা সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। সব নিরাপত্তা পরিকল্পনা সেভাবেই সাজানো হচ্ছে।’