― Advertisement ―

ট্রাম্প-ইরান শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান ইসরায়েলের: তেল আবিবে তীব্র ক্ষোভ, লেবাননে হামলা জোরদার

পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি আকস্মিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক ঘোষণার পর পরই ইসরায়েলজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ক্ষোভ ও কৌশলগত হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘ চার মাসের যৌথ সামরিক সংঘাতের পর গত রোববার গভীর রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শত্রুতা অবসানের এই চুক্তিটি প্রকাশ্যে আনেন। চুক্তির শর্তানুযায়ী লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সবকটি ফ্রন্টে অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিশ্চিত করেছেন। তবে এই যুদ্ধবিরতির শর্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) সোমবার দক্ষিণ লেবাননজুড়ে তাদের বিমান ও স্থল হামলা আরও জোরদার করেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জনসমক্ষ বিবৃতি না দিলেও, কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে যে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তেল আবিব এই চুক্তি মানতে বাধ্য নয়। নেতানিয়াহুর সুর ধরে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এবং অতি-কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। বেন গভির এক্সে (টুইটার) লিখেছেন, “ইসরায়েল আমেরিকার কোনো অধীনস্থ রাষ্ট্র বা ‘বানানা রিপাবলিক’ নয় যে ওয়াশিংটনের যেকোনো সিদ্ধান্ত অন্ধের মতো মেনে নেবে।” একই সময়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো সময়সীমা ছাড়াই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবানন ও সিরিয়ার নিরাপত্তা অঞ্চলে অবস্থান করবে।

এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর সবচেয়ে বড় ক্ষোভ উগরে দিয়েছে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী শিবির এবং নেতানিয়াহু-পন্থী গণমাধ্যমগুলো। প্রধানমন্ত্রীর অনানুষ্ঠানিক মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ইনন মাগাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘পরাজিত’ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ‘ঘৃণ্য’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েলকে সম্পূর্ণ একা ফেলে দেওয়া হয়েছে। এমনকি ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো এখন মার্কিন প্রশাসনকে ‘বিশ্বাসঘাতক আমেরিকা’ হিসেবে ফ্রেম করছে। কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ দাবি করেছেন, এই চুক্তি সমগ্র মুক্ত বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর এবং ইসরায়েল এখন থেকে এককভাবেই ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংসের অভিযান চালিয়ে যাবে।

অন্য দিকে, এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম তোপের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দেশটির মধ্য-বামপন্থী বিরোধীদল ‘দ্য ডেমোক্র্যাটস’-এর নেতা ইয়ার গোলান এবং সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট এই চুক্তিকে নেতানিয়াহুর বহু বছরের ভুল পররাষ্ট্রনীতির ‘মহাবিপর্যয়’ ও ব্যর্থতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ট্রাম্পের এই চুক্তি ইরানের শত কোটি ডলারের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করে দেবে, অথচ তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক কর্মসূচি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও বর্তমান সরকারকে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা একটি ‘স্থবির প্রশাসন’ আখ্যা দিয়ে আগামী নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার ডাক দিয়েছেন।