― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

জুলাই আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে: নাহিদ ইসলাম

জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানসহ যাবতীয় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবিস্মরণীয় অবদান ও আত্মত্যাগের আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান এবং তাঁদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবন মিলনায়তনে ‘জুলাইয়ের রক্তাক্ত জুব্বা: মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান।

আন্দোলনের চরম সংকটাপন্ন সময়ের স্মৃতিচারণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই আন্দোলনের কঠিনতম সময়ে ১৭ ও ১৮ জুলাই যখন রাজপথের লড়াই কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসছিল, ঠিক তখন দুটি মূল শক্তি মাঠে নেমে আন্দোলনের পুনর্জাগরণ ঘটায়—তারা হলো আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ। এই ভূখণ্ডের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় যুগে যুগে ওলামায়ে কেরাম জীবন উৎসর্গ করেছেন। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বজুড়েই এই জুব্বা হলো বৈষম্যহীনতার পক্ষে আন্দোলন ও সংগ্রামের প্রতীক। তাই আমরা সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি, আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের এই অভূতপূর্ব ত্যাগকে অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করতে হবে।”

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া কিছু বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ আরও বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন যে ‘জুলাই নিয়ে ব্যবসা করা যাবে না’। কিন্তু আমরা যখন জুলাইয়ের মূল আকাঙ্ক্ষা ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের কথা বলি, তখন তারা এটাকে ‘জুলাই চেতনা বিক্রি’ বলে আখ্যায়িত করছেন। প্রকৃতপক্ষে জুলাইয়ের চেতনা কেউ বিক্রি করছে না। স্বাধীনতার পর গত ৫০ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দোহাই দিয়ে গণতন্ত্র হত্যা, গুম-খুন ও লুটপাট চালানো হয়েছে, আর আজ সেই একই ধরনের চেতনার কথা শুনছি বিদ্যমান ক্ষমতাসীনদের মুখে।”

সরকারের প্রাপ্তি ও সংস্কার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে সবচেয়ে বেশি সুবিধাপ্রাপ্ত দল বিএনপি। অথচ গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমাদের দেওয়া হয়েছিল ক্ষমতাহীন দায়িত্ব, আর তারা পেয়েছে দায়িত্বহীন ক্ষমতা। সংবিধান সংস্কারের আদেশকে যদি অবৈধ বলা হয়, তবে সেই আদেশ প্রদানকারী রাষ্ট্রপতি কিংবা নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরকার কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”

সংবিধান ও বিপ্লবের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাখ্যার বিষয়ে আলোকপাত করে এনসিপি আহ্বায়ক স্পষ্ট করেন যে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নির্বাচন কেবল প্রচলিত সংবিধান দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। এটি বাস্তবায়িত হয়েছে জুলাই বিপ্লবের বৈপ্লবিক আদেশ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে। তাই সংবিধান সংশোধন কমিটির নামে কোনো ধরনের তালবাহানা না করে অবিলম্বে গণভোটের রায় ও রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে নাহিদ ইসলাম হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি সংস্কারের এই গণদাবি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে ওলামায়ে কেরামসহ জুলাই আন্দোলনের সকল রাজনৈতিক শক্তিকে সাথে নিয়ে নতুন করে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে এনসিপি। তারা আলোচনার মাধ্যমেই সংসদে সমাধান চান, তবে রাজপথের আন্দোলনের প্রস্তুতিও তাঁদের রয়েছে।