― Advertisement ―

সিটের নিচে বিশেষ চেম্বার: কক্সবাজারে স্লিপার কোচ থেকে ৯২ হাজার ইয়াবাসহ হেল্পার গ্রেপ্তার

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বিলাসবহুল স্লিপার কোচে মধ্যরাতে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে প্রায় ৯২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার...

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আতিথেয়তা শিল্প: ২০২৫ সালে বাংলাদেশে রেকর্ড ৭ লাখ পর্যটকের আগমন

বিগত ২০২৪ সালের নজিরবিহীন রাজনৈতিক সহিংসতা, জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রিক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এবং ৫ আগস্টের সরকার পরিবর্তনের পটভূমিতে বাংলাদেশের পর্যটন খাত চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটেছে। এর ফলে বহুজাতিক তৈরি পোশাক ক্রেতা, উন্নয়ন সহযোগী ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আগমন বৃদ্ধিতে গতি ফিরেছে আতিথেয়তা শিল্পে। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া ইরান ও পশ্চিমা সামরিক সংঘাতের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা সাময়িক উদ্বেগ তৈরি করলেও, সেই মেঘ কেটে যাওয়ায় দেশের বিলাসবহুল হোটেলগুলোর বুকিং এখন ঊর্ধ্বমুখী।

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও যেখানে মাত্র ৬,৫৫,০০০ বিদেশী পর্যটক এসেছিলেন, সেখানে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে তা ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে রেকর্ড ৭,০০,০০০-এ পৌঁছেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিদেশী পর্যটকদের কাছ থেকে বাংলাদেশের আয় পূর্ববর্তী বছরের ৪৫৩ মিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৪৪০ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। তবে ২০২৫ এবং ২০২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে এই আয়ের গ্রাফ আবারও ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিলাসবহুল হোটেলগুলোতে স্থানীয় করপোরেট ও আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের আনাগোনা ব্যবসা পুনরুদ্ধারে মূল ভূমিকা রাখছে।

এই অগ্রগতির সুবাদে দেশের ফাইভ-স্টার হোটেলগুলোর ব্যবসায়িক মডেলে বৈচিত্র্য এসেছে। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, লা মেরিডিয়ান, র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন এবং দ্য ওয়েস্টিন হোটেলের মোট আয়ের ৭০ শতাংশই আসছে রুম সার্ভিস থেকে এবং বাকি ৩০ শতাংশ আসছে রেস্তোরাঁ ও বলরুম ইভেন্ট থেকে। অন্যদিকে, ইন্টারকন্টিনেন্টাল, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও এবং হলিডে ইন-এর ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন; তাদের আয়ের ৭০ শতাংশই আসে ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ও বড় করপোরেট কনফারেন্স থেকে এবং ৩০ শতাংশ আসে রুম বুকিং থেকে। বর্তমানে এসব অভিজাত হোটেলে অবস্থানকারী অতিথিদের ৪০ শতাংশই চীনা নাগরিক, ৩০ শতাংশ ভারতীয় এবং বাকি ৩০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় দেশের ক্রেতা ও প্রকৌশলী।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০২৪ সালের ‘ট্রাভেল অ্যান্ড টুরিজম ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স’-এ ১১৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১০৯তম স্থানে থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় বেশ পিছিয়ে রয়েছে। প্রতিবেশী ভারত, নেপাল এবং দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের তুলনায় বাংলাদেশের পর্যটন খাতের অবদান জিডিপির মাত্র ৩.০২ শতাংশ। এই বৈষম্য দূর করতে এবং অবকাঠামোগত ঘাটতি মেটাতে বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড (বিটিবি) বর্তমানে একটি মহাপরিকল্পনা (Tourism Master Plan) চূড়ান্তকরণের কাজ করছে। এর পাশাপাশি ভিসা-অন-অ্যারাইভাল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং কর কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পর্যটন খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণ করার কৌশল হাতে নিয়েছে।