সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কের অজুহাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং পরবর্তীতে তা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের একটি ফেডারেল আদালতে একদল ভোক্তা যৌথভাবে এই প্রস্তাবিত ক্লাস অ্যাকশন (Class Action) মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নথিতে অভিযোগ করা হয়, অবৈধ ঘোষিত শুল্কের খরচ পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করে অ্যামাজন সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছে।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত শুল্ক আরোপের পর অ্যামাজন তাদের প্ল্যাটফর্মে আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। প্রতিষ্ঠানটি এই শুল্কের সম্পূর্ণ আর্থিক দায়ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে শত শত মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করে। তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ওই শুল্ককে সম্পূর্ণ অবৈধ ও আইনি ভিত্তিহীন বলে ঘোষণা করে। আদালতের এই রায়ের পর শুল্কের বিপরীতে নেওয়া বাড়তি অর্থ গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও অ্যামাজন তা করেনি।
বাদীপক্ষের দাবি, সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক শুল্ক বাতিল ও অবৈধ ঘোষিত হওয়ার পরও অ্যামাজন সেই বাড়তি অর্থ নিজেদের তহবিলে রেখে দিয়েছে। এটি একদিকে যেমন অন্যায্য ও অনৈতিক, অন্যদিকে গ্রাহকদের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা। শুল্কের টাকা ফেরত না দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি অন্যায়ভাবে লাভবান হয়েছে বলে ভোক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দায়েরকৃত এই মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সকল ভোক্তার সমপরিমাণ অর্থ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আইনি লড়াই টেক জায়ান্ট অ্যামাজনের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ও ভাবমূর্তির সংকটের কারণ হতে পারে। তবে এই মামলা এবং ভোক্তাদের আনা গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত অ্যামাজন কর্তৃপক্ষ কিংবা তাদের কোনো আইনি প্রতিনিধির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্বজুড়ে ই-কমার্স খাতের স্বচ্ছতা ও গ্রাহক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এই মামলার রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



