― Advertisement ―

এবার ঢাকায় রোবট দেবে ফিজিওথেরাপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক রোবটের মাধ্যমে পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি স্নায়ুজনিত রোগীর অবস্থা অনুযায়ী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফিজিওথেরাপি সেবা প্রদান করা সম্ভব। রোবটিক...

এআই খাতে বড় বিনিয়োগের লক্ষ্য: ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই শুরু করল মেটা

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা (Meta) তাদের ব্যবসায়িক কাঠামো ও প্রযুক্তিগত অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ও আমূল পরিবর্তন এনেছে। সিলিকন ভ্যালির এই টেক জায়ান্ট তাদের বৈশ্বিক কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ— যা সংখ্যায় প্রায় ৮ হাজার কর্মী, একযোগে ছাঁটাই করার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বুধবার (২০ মে, ২০২৬) ভোর থেকে বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন আঞ্চলিক কার্যালয়ে এই ছাঁটাই কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। মেটার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) খাতে মেটার দীর্ঘমেয়াদী ও বিশাল বিনিয়োগের পথ সুগম করতেই এই বিতর্কিত কর্পোরেট পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ভোর থেকেই মেটার বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কর্মীদের অফিশিয়াল ইমেইলে ছাঁটাইয়ের ডিজিটাল নোটিশ পাঠানো শুরু হয়। টাইম জোনের পার্থক্যের কারণে মেটার সিঙ্গাপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মীরা প্রথম দফায় এই নোটিশের মুখোমুখি হন, যা পরবর্তীতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেনলো পার্ক সদর দফতরের কর্মীদের কাছেও পৌঁছে যায়। আকস্মিক এই গণছাঁটাইয়ের ফলে বিশ্বজুড়ে কর্মরত মেটার হাজার হাজার প্রকৌশলী, ডিজাইনার ও বিপণন কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে।

কর্মী ছাঁটাইয়ের এই কঠিন সিদ্ধান্তের পর মেটার অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় সিইও মার্ক জাকারবার্গ বিদায়ী কর্মীদের মেটার পূর্ববর্তী অর্জনে অনন্য অবদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাকি কর্মীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “মেটাকে আরও বেশি চটপটে ও এআই-কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে আমি নিশ্চিত করছি যে, চলতি ২০২৬ সালের মধ্যে আমাদের আর কোনো ‘কোম্পানিজুড়ে’ (Company-wide) বড় ধরনের গণছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা নেই।” জাকারবার্গের এই আশ্বাসের মাধ্যমে অবশিষ্ট কর্মীদের মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

মেটার এই অভ্যন্তরীণ কৌশলগত পরিবর্তনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো— একদিকে যেমন ৮ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে, ঠিক একইভাবে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৭ হাজার দক্ষ কর্মীকে তাদের বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে নতুন এআই-সম্পর্কিত বিশেষায়িত দলগুলোতে পুনর্বিন্যাস (Restructuring) করছে। মেটা বর্তমানে তাদের নিজস্ব এআই অবকাঠামো নির্মাণ, অত্যাধুনিক ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং নিজস্ব চিপ প্রযুক্তির (Advanced Chip Technology) উন্নয়নে বিলিয়ন ডলারের নতুন তহবিল বরাদ্দ করেছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ওপেনএআই এবং গুগলের সাথে এআই যুদ্ধের এই তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতেই বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ঐতিহ্যগত জনবল কমিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পেছনে মূলধন বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, যার একটি বড় উদাহরণ মেটার এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপ।