― Advertisement ―

ইরানের জব্দ করা বিপুল তহবিল আরব দেশগুলোকে দেবে যুক্তরাষ্ট্র; ক্ষয়ক্ষতি মাপার নির্দেশ মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রীর

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করে, ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আরব দেশগুলোর অবকাঠামো মেরামতে তেহরানের জব্দকৃত অর্থ ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ করে রাখা ইরানের বিপুল পরিমাণ তহবিল থেকে এই ক্ষতিপূরণের অর্থ সরাসরি আরব মিত্রদের দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স রবিবার (৭ জুন, ২০২৬) সংশ্লিষ্ট শীর্ষ সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর ভূ-রাজনৈতিক পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ করেছে। অতীতের বিভিন্ন সংঘাতময় হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারেই এই অর্থ ব্যয় করার বিষয়টি চূড়ান্ত বিবেচনায় রেখেছে হোয়াইট হাউস।

মার্কিন সরকারের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, নবগঠিত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইতিমধ্যে তাঁর বিশেষ দলকে একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। এই দলটির মূল কাজ হবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও ড্রোন হামলায় আরব দেশগুলোর ঠিক কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার আর্থিক পরিমাণ নিখুঁতভাবে নিরূপণ করা। যুক্তরাষ্ট্রের এই অপ্রত্যাশিত ও নজিরবিহীন পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব আরও সংকুচিত হবে এবং তেহরানের সাথে ওয়াশিংটনের চলমান যুদ্ধাবস্থার উত্তেজনা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য প্রান্তে লেবানন সরকার ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও তীব্র হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর পৃথক দুটি প্রতিরোধ হামলায় দখলদার ইসরায়েলের দুই সেনা নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) শনিবার রাতে দাপ্তরিকভাবে এই প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে। নিহতদের মধ্যে একজন উচ্চপদস্থ কমান্ডো কর্মকর্তা রয়েছেন, যা লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইডিএফ-এর তথ্য অনুযায়ী, নিহত সেনাদের একজন ২৩ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন শাহার গামলা, যিনি সেনাবাহিনীর অভিজাত ‘ইগোজ’ ইউনিটের কমান্ডো ব্রিগেডের কমান্ডার ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার হিজবুল্লাহর একটি আত্মঘাতী ড্রোন হামলায় তিনি গুরুতর আহত হওয়ার পর শনিবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অন্যদিকে, শুক্রবার সাকেদ ব্যাটালিয়নের ২১ বছর বয়সী সার্জেন্ট ওহাদ ইয়ারি নামে আরেক সেনা নিহত হন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, ওহাদ ইয়ারি ছিটমহলটিতে একটি ‘দুর্ঘটনাজনিত গোলাগুলিতে’ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের সামরিক তদন্ত শুরু হয়েছে।