― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে র‍্যাবের ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

বরিশাল মেইল ডেস্ক

একজন চিকিৎসককে জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা হয়। অভিযোগকারী চিকিৎসক ইসরাত রাফিক ইশিতার অভিযোগ হচ্ছে, ২০২১ সালের ২৮ জুলাই রাজধানীর কাফরুল এলাকার নিজ বাসা থেকে র‌্যাব তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে তুলে নিয়ে যায়। ‘আইসিটি কেস ফাইলড এগেইনস্ট সিক্স র‌্যাব অফিসার্স’ শিরোনামে সোমবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউএইজ পত্রিকা। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার আলী আশরাফ, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ রাকিব ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আখতারুজ্জামান।

ইসরাতের অভিযোগ মতে, তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে র‌্যাব একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখেছিল। সেখানে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। গুমের পাঁচ দিন পর ২০২১ সালের ১লা আগস্ট র‌্যাব তাকে গণমাধ্যমের সামনে নিয়ে আসে। পরের দিন, ২ আগস্ট, ইসরাতকে জনসমক্ষে একজন ‘ভুয়া চিকিৎসক’ হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। এছাড়া সেসময় র‌্যাব তার বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলা দেয়, যা ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী চিকিৎসক।

তার মামলা ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলার সংখ্যা ৩০ এ নিয়ে গেছে, বেশিরভাগই পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে, তার পদত্যাগ এবং ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে।
ওই চিকিৎসকের মামলা সহ এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে মানবাধিকার বিষয়ে মোট ৩০টি মামলা হয়েছে। যেগুলোর বেশির ভাগই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। বিশেষ করে হাসিনা গত ৫ই আগস্ট ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে এসব মামলা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি অভিযোগ পেয়েছে, যেখানে ড. সজিব সরকার ও শেখ আশাবুল ইয়ামিনের মৃত্যুর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। দুজনেই ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের সময় গত ১৮ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। ড. সজিব সরকারের পিতা হালিম সরকার তার সন্তান হত্যার দায়ে পুলিশ সহ মোট ৭১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ২০২০ সালে তাহেরুন্নেসা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করা সজিব শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলাকালে রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। গণমাধ্যমকে হালিম সরকার বলেছেন, পুলিশ তার নিরাপরাধ সন্তানকে হত্যা করেছে। তিনি দ্রুত এর বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
পৃথক আরেক অভিযোগে ইয়ামিনের চাচা মো. আব্দুল্লাহ আল মুন কাদির আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের, জুনাইদ আহমেদ পলক, মোহাম্মদ এ আরাফাতসহ ৭৮ জনকে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেছেন। ট্রাইব্যুনালের ১৯৭৩ সালের আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ইয়ামিনের চাচা।
সাভারে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের সময় ইয়ামিনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। পরে কোনো ফাঁকা জায়গায় গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়। ইয়ামিনের লাশ একটি সাঁজোয়া যানে নিয়ে এসে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায় পুলিশ। রাস্তার ডিভাইডারে ফেলে দেওয়ার সেই নির্মম দৃশ্য ভাইরাল হয় যাতে গোটা জাতি হতবাক হয়ে পড়ে। পরে ইয়ামিনকে দ্রুত সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ধারা ৩(২), ৪(১), এবং ৪(২) এর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। কেননা ১৮ জুলাইয়ের মর্মান্তিক ওই ঘটনার পর ন্যায়বিচারের আহ্বান আরও জোরালো হয়েছে।